—ছবি সংগৃহিত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ভাগ্য এবং ভারত-পাকিস্তান হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ নিয়ে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে এক রুদ্ধশ্বাস কূটনৈতিক মিশনে পাকিস্তানে গিয়েছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম।
আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তিনি লাহোরে পৌঁছান। সেখানে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান নির্বাহী সালমান নাসির তাঁকে স্বাগত জানান।
রহস্যময় ও জরুরি সফর: শনিবার রাত ১টায় বিসিবি পরিচালকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি বার্তার মাধ্যমে এই সফরের কথা জানান আমিনুল ইসলাম। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান যাওয়ার সিদ্ধান্তটি সফরের মাত্র ৯০ মিনিট আগে (রাত সাড়ে ১১টা) নিশ্চিত হয়েছে। আইসিসি ও পিসিবির সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার অংশ হিসেবেই তাঁর এই জরুরি লাহোর যাত্রা।
বৈঠকের নেপথ্যে যা রয়েছে: ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন লাহোরের দিকে, যেখানে আজ বিকেলে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা, পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বৈঠকের মূল বিষয়গুলো হলো:
পাকিস্তানের ভারত বর্জন: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করেছে যে, তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলবে না।
আইসিসির বিশাল আর্থিক ঝুঁকি: এই ম্যাচটি না হলে আইসিসির প্রায় ৬,১০০ কোটি টাকা লোকসান হতে পারে। তাই পিসিবিকে রাজি করাতে আইসিসি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিসিবির ভূমিকা: পাকিস্তান যেহেতু বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে এই কঠোর অবস্থানে গিয়েছে, তাই সমাধান খুঁজতে আইসিসি ও পিসিবি উভয়ই বাংলাদেশকে আলোচনার টেবিলে রাখতে চায়। আমিনুল ইসলাম এখানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পিসিবির অনড় অবস্থান: পাকিস্তান সরকার ও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি শুরু থেকেই বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়’ ও ‘দ্বিমুখী নীতি’ বলে অভিহিত করেছেন। পাকিস্তান চায় আইসিসি যেন তাদের ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে সুনির্দিষ্ট সমাধান দেয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ: বিসিবি সভাপতি আগামীকাল ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই বৈঠকের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে কি না।