—ছবি সংগৃহিত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন বাকি থাকতে দেশবাসীকে ভোটের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা-১৪ ও ঢাকা-১৬ আসনের পৃথক দুটি নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
ষড়যন্ত্র ও ভোট জালিয়াতি নিয়ে সতর্কবার্তা: মিরপুরের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ঢাকা-১৪ আসনের প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলির সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, “আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে যাতে আপনাদের ভোট কেউ ‘আমি-ডামির নির্বাচন’ করে বাক্সে বন্দি করতে না পারে। কোনো ষড়যন্ত্র করে যেন কেউ ভোটের ফল পাল্টে দিতে না পারে।”
তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং নকল সিল তৈরি ও ভোটারদের এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করে কারচুপির পায়তারা করছে।
জনকল্যাণমূলক ‘কার্ড’ ও বিশেষ প্রতিশ্রুতি: এর আগে বিকেলে পল্লবীর লাল মাঠে ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী আমিনুল হকের সমর্থনে আয়োজিত সভায় তারেক রহমান বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরেন:
ফ্যামিলি কার্ড: দেশের প্রতিটি গৃহিণীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সরাসরি সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে।
কৃষক কার্ড: কৃষকদের ভর্তুকি ও সহায়তার জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের ঘোষণা দেন তিনি।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থান: তরুণদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং ও কারিগরি প্রশিক্ষণে প্রতিটি জেলায় আইটি ট্রেনিং সেন্টার এবং ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।
আবাসন ও স্বাস্থ্য: মিরপুর এলাকায় একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ এবং উদ্বাস্তু বা আবাসন সংকটে থাকা মানুষের জন্য আইনি ভিত্তিসহ স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার করেন।
উন্নয়ন ও দুর্নীতির লাগাম: বিগত ১৬ বছরের ‘মেগা প্রজেক্টের’ সমালোচনা করে তিনি বলেন, “উন্নয়ন হয়েছে হাতেগোনা কিছু মানুষের পকেটে, সাধারণ জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।” বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মেগা প্রজেক্টের বদলে মেগা পকেট ভরার রাজনীতি বন্ধ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
তারেক রহমান ঢাকা-১৪ আসনের প্রার্থী সানজিদা ইসলাম এবং ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী আমিনুল হকের পক্ষে ভোট চেয়ে বলেন, “আমরা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না যা মানুষের সাধ্যের বাইরে। আমরা মানুষের দুঃখ বুঝি এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করেছি।”