—ছবি মুক্ত প্রভাত
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মাদার, চুনো আর কালিন্দী নদী বেষ্টিত এক বিচ্ছিন্ন জনপদ ‘গোলাখালী’। আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সারা দেশে উৎসবের আমেজ থাকলেও এই দ্বীপের ৭৮টি পরিবারের মনে বিরাজ করছে চরম আক্ষেপ।
ভোট দোরগোড়ায় চলে এলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী এই দুর্গম দ্বীপে পা রাখেননি।
মৌলিক অধিকারহীন জীবন: প্রায় ৪০ বছর আগে জনবসতি শুরু হওয়া এই দ্বীপে নেই কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নেই হাসপাতাল কিংবা বাজার। সুপেয় পানির সংকট এখানে নিত্যদিনের সঙ্গী। জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ দিয়ে ঘেরা এই জনপদের ভোটারদের কাছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির চেয়ে টেকসই সমাধানই এখন মুখ্য।
শিক্ষা সংকট: দ্বীপে কোনো স্কুল না থাকায় কোমলমতি শিশুদের ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিয়ে ‘কালিঞ্চা’ গ্রামে পড়াশোনা করতে হয়। ঝূঁকিপূর্ণ যাতায়াতের কারণে অনেক শিশু মাঝপথেই পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি: জরুরি প্রয়োজনে বা প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসার জন্য মাঝরাতে নৌকা নিয়ে নদী পাড়ি দিতে হয়। একটি স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও নৌ-অ্যাম্বুলেন্স এখন দ্বীপবাসীর প্রধান দাবি।
পানির হাহাকার: লবণাক্ততার কারণে অধিকাংশ নলকূপ অচল। বৃষ্টির পানিই এখানকার মানুষের একমাত্র ভরসা।
ভোটারদের ক্ষোভ ও প্রার্থীদের অবস্থান: স্থানীয় বাসিন্দা জামের আলী ও শেফালি বিবি জানান, নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কেউ খোঁজ রাখে না। সরেজমিনে এলাকায় শুধু বিএনপি প্রার্থী ড. মোঃ মনিরুজ্জামান ও জামায়াত প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের কয়েকটি ব্যানার দেখা গেছে। অন্য প্রার্থীদের কোনো চিহ্নও সেখানে নেই।
প্রার্থীদের বক্তব্য: বিচ্ছিন্ন এই জনপদের সমস্যা নিয়ে প্রার্থীরা তাদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন:
গাজী নজরুল ইসলাম (জামায়াত প্রার্থী): তিনি নির্বাচিত হলে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ সংস্কার এবং শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশেষ করে গাবুরা ও পদ্মপুকুরের মতো দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেবেন বলে জানান।
ড. মোঃ মনিরুজ্জামান (বিএনপি প্রার্থী): তিনি টেকসই বেড়িবাঁধ ও সুপেয় পানির পাশাপাশি সুন্দরবনকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখছেন। তিন বছরের মধ্যে এই এলাকাকে 'অর্থনৈতিক জোন' করার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
গোলাখালীর মানুষ এবার আবেগে নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যাতায়াত ব্যবস্থার বাস্তব সমাধান দেখেই তাদের মূল্যবান ভোট দিতে চান। শ্যামনগরের নির্বাচনী সমীকরণে এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপের ভোটাররাই এখন বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন।