—ছবি মুক্ত প্রভাত
রঙিন ব্যানার আর পোস্টারে ছেয়ে যাওয়া সনাতনী প্রচারণার দিন ফুরিয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী-রৌমারী-রাজীবপুর) আসনে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র।
নির্বাচনী আচরণবিধিতে পোস্টার নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রার্থীরা এখন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ব্যক্তিগত ও ঘরোয়া যোগাযোগে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
এই আসনের ভোটের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভোটার উপস্থিতির ওপরই নির্ভর করে জয়ের ভাগ্য। উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে:
২০০১ (অষ্টম নির্বাচন): ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৯১; জয়ী প্রার্থীর ভোট ৪০%।
২০০৮ (নবম নির্বাচন): ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৫১২; জয়ী প্রার্থীর ভোট ৩৭.৫%।
২০১৪ (দশম নির্বাচন): ভোটার উপস্থিতিতে বড় ধস (৫৯,৫১৪ জন); জয়ী প্রার্থীর ভোট ৫৪.৮%।
২০১৮ (একাদশ নির্বাচন): রেকর্ড ২ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৯ ভোট পড়ে; জয়ী প্রার্থীর ভোট ৬৮.৭%।
২০২৪ (দ্বাদশ নির্বাচন): উপস্থিতি আবার কমে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬২১ জনে নামে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩ জন ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে আনাটাই প্রার্থীদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ।
মাঠে আছেন ৭ প্রার্থী
এ আসনে এবার রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন:
মো. আজিজুর রহমান (ধানের শীষ)
মো. মোস্তাফিজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা)
মো. রুকুনুজ্জামান (বালতি)
মাওলানা হাফিজুর রহমান (হাতপাখা)
কে এম ফজলুল মন্ডল (লাঙল)
আব্দুল খালেক (মই)
রাজু আহম্মেদ (কেঁচি)
ভোটারদের প্রতিক্রিয়া
সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্বাচনী আমেজ থাকলেও রাজপথে পোস্টার বা দেয়াল লিখনের বাহুল্য নেই। স্থানীয় ভোটার মোসলেম উদ্দীন জানান, “আগে শুধু স্লোগান শুনতাম, এখন প্রার্থীরা ঘরে আসায় সরাসরি প্রশ্ন করতে পারছি।” তবে নারী ভোটার সালমা বেগমের কণ্ঠে ভিন্ন সুর, তিনি বলেন, “পোস্টার না থাকায় ভোটের আমেজ ঠিক বোঝা যাচ্ছে না, মানুষ ভোট দিতে যাবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নাহিদ হাসান মনে করেন, “ভোটার উপস্থিতি যেখানে ওঠানামা করে, সেখানে পোস্টার ছেড়ে সরাসরি লক্ষ্যভিত্তিক যোগাযোগই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এ আসনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।