—ছবি সংগৃহিত
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সদস্যদের শপথ গ্রহণ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে প্রধান বিচারপতির কাছে অথবা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে শপথ নিতে পারেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইন উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
কেন স্পিকার শপথ পড়াতে পারছেন না?
সাধারণত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার। তবে আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাগারে আছেন। তিনি বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা রয়েছে। এই অবস্থায় তাদের দিয়ে শপথ পড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।”
শপথ গ্রহণের দুটি বিকল্প পথ
আইন উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সাংবিধানিক জটিলতা নিরসনে সরকারের সামনে দুটি বিকল্প রয়েছে: ১. রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি: প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তিকে শপথ পড়ানোর জন্য মনোনীত করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি শপথ পড়াতে পারেন বলে উদাহরণ দেন তিনি। ২. প্রধান নির্বাচন কমিশনার: যদি প্রথম প্রক্রিয়ায় শপথ না হয়, তবে নির্বাচনের তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাতে পারেন।
আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা নির্বাচন হওয়ার পর সময় নষ্ট করতে চাই না। তিন দিন অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই। এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধান উপদেষ্টাকে চূড়ান্ত অভিমত জানানো হবে।”
১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ক্ষমতা হস্তান্তর
এদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর সব প্রক্রিয়া শেষে ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে দেশে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।