—ছবি মুক্ত প্রভাত
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে এখনো নানা ষড়যন্ত্র চলছে। যারা গত ১৬ বছর জনগণের পাশে ছিল না এবং ৫ আগস্টের পলাতক শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল, তারা এখন সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এসব ‘গুপ্ত’ ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলীতে বিসিক শিল্প পার্ক এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সিরাজগঞ্জ ও পাবনার ১১টি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন তারেক রহমান।
অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রাখার আহ্বান
জনসভায় উপস্থিত বিপুল জনসমর্থনের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, "বাংলাদেশের মানুষ এখন গালভরা কথা নয়, বরং দেশ ও জাতির কল্যাণে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দেখতে চায়। বিএনপিই একমাত্র রাজনৈতিক দল যাদের দেশ পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। মানুষ তার ওপরেই ভরসা করে, যার কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে।"
অর্থনৈতিক ও শিল্প বিপ্লবের প্রতিশ্রুতি
উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন:
কৃষিনির্ভর শিল্প: সিরাজগঞ্জ থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত সমগ্র উত্তরাঞ্চলে কৃষিনির্ভর শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে।
তাঁতশিল্পের বিশ্বায়ন: সিরাজগঞ্জ ও পাবনার ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও লুঙ্গি শিল্পকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
শিল্প পার্ক: বেকার সমস্যা সমাধানে নতুন নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ তরুণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
সামাজিক সুরক্ষা: ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড
তারেক রহমান মা-বোনদের স্বাবলম্বী করতে এবং কৃষকদের অধিকার রক্ষায় দুটি বিশেষ কার্ডের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মায়ের হাতে 'ফ্যামিলি কার্ড' পৌঁছে দেওয়া হবে যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন। এছাড়া কৃষকদের সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি ঘরে পৌঁছে দিতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে 'কৃষক কার্ড' চালু করা হবে।
ধর্মীয় ও কারিগরি উন্নয়ন
মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারি মাসিক সম্মানীর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এছাড়াও বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে কারিগরি শিক্ষা ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট তৈরির ওপর জোর দেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, "আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষকে বিজয়ী করলে ১৩ তারিখ থেকেই আমরা এসব উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করব। ভেঙে পড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে ইনশা আল্লাহ।"