—ছবি সংগৃহিত
সাড়ে পাঁচ মাস আগে দেশান্তরী হওয়ার পর থেকে কোথায় আছেন, কেমন আছেন—তা নিয়ে জল্পনার অন্ত ছিল না। অবশেষে সব রহস্যের পর্দা সরিয়ে দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শারীরিক উপস্থিতি ও তাঁর বর্তমান যাপনের সুনির্দিষ্ট খবর মিলেছে।
গত ২১ জানুয়ারি দিল্লির এক অত্যন্ত সুরক্ষিত ও অভিজাত প্রাসাদে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা সময় কাটিয়েছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের একদল শীর্ষ নেতা।
লোহার চাদরে ঘেরা নিরাপত্তা
লন্ডন থেকে আসা প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে এই সাক্ষাৎ ছিল অনেকটা কোনো থ্রিলার সিনেমার দৃশ্যের মতো। নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর পর তাঁদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে সবকিছু রেখে দিতে হয়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষায়িত গাড়িতে করে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় সেই গোপন ও বিশাল বাসভবনে। সেখানে প্রবেশের প্রতিটি ধাপে ছিল কড়া তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি।
আত্মবিশ্বাসী শেখ হাসিনা: কেমন দেখলেন নেতারা?
সাক্ষাৎ শেষে ২৬ জানুয়ারি লন্ডনে ফিরেছেন ওই প্রতিনিধি দলের পাঁচ নেতা। তাঁদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে মোটেও ভেঙে পড়তে দেখা যায়নি। বরং ৫ ঘণ্টার আলাপচারিতায় তিনি ছিলেন বেশ 'আত্মবিশ্বাসী ও প্রত্যয়ী'।
শারীরিক পরিবর্তন: টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার ক্লান্তি বা বর্তমান পরিস্থিতির চাপ তাঁর চোখেমুখে বিশেষ ধরা পড়েনি। তবে আগের চেয়ে তাঁর ওজন কিছুটা কমেছে বলে লক্ষ্য করেছেন নেতারা।
সঙ্গী: ছোট বোন শেখ রেহানা নিয়মিত বিরতিতে লন্ডন থেকে দিল্লি যাতায়াত করছেন এবং দিদির সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন।
জয় বনাম বাস্তবতা: রাজনীতি কি শেষ?
সম্প্রতি সজীব ওয়াজেদ জয় কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেছিলেন, তাঁর মা রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু দিল্লির এই ৫ ঘণ্টার 'ম্যারাথন' বৈঠক এবং গত ২৩ জানুয়ারি অডিও বার্তার মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জয় তাঁর মায়ের 'অবসর' নিয়ে কথা বললেও দিল্লির তৎপরতা বলছে, আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক সক্রিয়তা নেপথ্যে এখনও বহাল।
বিচার ও হস্তান্তরের অমীমাংসিত প্রশ্ন
একদিকে দিল্লির প্রাসাদে 'মর্যাদাপূর্ণ' আতিথেয়তা, অন্যদিকে ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ড ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা—শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে এই দুই বিপরীতধর্মী মেরুকরণ এখন দৃশ্যমান। অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করতে হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে আসলেও, ভারত সরকার এখনও 'কূটনৈতিক মৌনতা' অবলম্বন করে চলেছে।
এই সাক্ষাৎ কি ঝিমিয়ে পড়া আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের জন্য নতুন কোনো বার্তা, নাকি এটি কেবলই সৌজন্য বিনিময়—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।