—ছবি সংগৃহিত
নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনসমর্থনের পাল্লা ততটাই বিএনপির দিকে ঝুঁকছে। বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের সাম্প্রতিক জরিপ ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পেপস)’-এর তৃতীয় রাউন্ডে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপ অনুযায়ী, ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বিআরএআইএন ও ভয়েস ফর রিফর্ম নামক দুটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় এই জরিপ পরিচালিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শীর্ষ পছন্দ যারা
জরিপে অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের মতামতে ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এককভাবে শীর্ষে রয়েছেন। জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়:
তারেক রহমান: ৪৭.৬ শতাংশ
শফিকুর রহমান (আমির, জামায়াতে ইসলামী): ২২.৫ শতাংশ
নাহিদ ইসলাম: ২.৭ শতাংশ
সিদ্ধান্তহীন: ২২.২ শতাংশ
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনা এবং খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সিদ্ধান্তহীন ভোটার বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন।
আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সমর্থকদের ঝোঁক বিএনপির দিকে
জরিপের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের অবস্থান। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকায়, দলটির সমর্থকদের একটি বড় অংশ (৩২.৯ শতাংশ) বিএনপিকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ১৩.২ শতাংশ জামায়াতকে বেছে নিতে পারেন এবং ৪১.৩ শতাংশ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামী বা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থকদের একটি অংশও এখন বিএনপির দিকে সরে আসছে বলে জরিপে দেখা গেছে।
আসনভিত্তিক বিজয়ের সম্ভাবনা
আগামীকাল নির্বাচন হলে নিজ এলাকায় কোন দল জিতবে—এমন প্রশ্নে ৫২.৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপির কথা বলেছেন। পেপসের দ্বিতীয় রাউন্ডের তুলনায় এই হার ৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতের ক্ষেত্রে এই হার বেড়েছে মাত্র ১.১ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে, যারা পছন্দ প্রকাশ করেছেন তাদের মধ্যে ৫২.৮ শতাংশ ভোট বিএনপির পক্ষে এবং ৩১ শতাংশ ভোট জামায়াত ও তাদের জোটের পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গণভোট ও জুলাই সনদ
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত গণভোটের বিষয়েও জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যায়, প্রায় ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা সংস্কারের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ২২ শতাংশ মানুষ এখনও গণভোটের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।
জরিপ পদ্ধতি
ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার জানান, গত ১৬ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলার ৫ হাজার ১৪৭ জন নাগরিকের ওপর টেলিফোনে এই জরিপ চালানো হয়। ভোটার উপস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনসহ মোট ছয়টি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।