—ছবি প্রার্থীর সৌজন্যে
নাটোর-৪ আসনের নির্বাচনী আমেজ এখন চরমে। বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলার প্রতিটি মোড় এখন নির্বাচনী প্রচারণায় মুখর। এই আসনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ ও উন্নয়ন নিয়ে আমাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল হাকিম। দীর্ঘ আলাপে উঠে এসেছে তাঁর স্বপ্ন, পরিকল্পনা এবং অবহেলিত জনপদ নিয়ে তাঁর বলিষ্ঠ অঙ্গীকার।
মুক্ত প্রভাত: ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে আপনি কতটা আশাবাদী?
অধ্যাপক আবদুল হাকিম: বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। আমি শুরুতেই স্মরণ করছি ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের শহীদদের, যাঁদের রক্তে আমরা আজ স্বাধীনভাবে নিশ্বাস নিতে পারছি। আমি এই এলাকার মানুষের সন্তান। বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুরের প্রতিটি ধূলিকণা আমার চেনা। মানুষের মধ্যে এবার যে স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ দেখছি, তা গত ১৫-১৬ বছরে দেখা যায়নি। মানুষ এখন পরিবর্তনের পক্ষে, ইনসাফের পক্ষে। আমি ইনশাআল্লাহ শতভাগ আশাবাদী যে, ভোটাররা যদি কেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তবে তারা বিপুল ব্যবধানে আমাকে নির্বাচিত করবেন।
মুক্ত প্রভাত: এলাকার প্রধান সমস্যা হিসেবে আপনি কোন বিষয়গুলোকে দেখছেন?
অধ্যাপক আবদুল হাকিম: নাটোর-৪ কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও উন্নয়নের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে। বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুরের প্রধান সমস্যা হলো কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া। চলনবিল অঞ্চলের কৃষকরা হাড়ভাঙা খাটুনি করেও অভাবের তাড়নায় থাকে। এছাড়া এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিশেষ করে গ্রামীণ রাস্তাঘাটগুলোর অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। বেকারত্ব আমাদের শিক্ষিত যুবকদের হাতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আর প্রশাসনিক দুর্নীতি ও মাদক তো আছেই, যা সমাজকে কুরে কুরে খাচ্ছে।
মুক্ত প্রভাত: আপনার নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকদের জন্য বিশেষ কী পরিকল্পনা আছে?
অধ্যাপক আবদুল হাকিম: আমি নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজ হবে কৃষি বিপ্লব ঘটানো। বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুরে অন্তত দুটি আধুনিক হিমাগার (কোল্ড স্টোরেজ) স্থাপন করব যাতে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্য বিশেষ করে রসুন ও আলু পচনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন এবং সময়মতো সঠিক দামে বিক্রি করতে পারেন। কৃষকদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা এবং কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা হবে। চলনবিলের জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ও নদী খননের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মুক্ত প্রভাত: আইন-শৃঙ্খলা এবং সুশাসন নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?
অধ্যাপক আবদুল হাকিম: আমি বিশ্বাস করি, বিচারহীনতার সংস্কৃতিই সমাজের অস্থিরতার মূল কারণ। আমি কথা দিচ্ছি, বিজয়ী হলে এলাকায় কোনো ‘গডফাদার’ সংস্কৃতি থাকবে না। থানা হবে সাধারণ মানুষের ভরসাস্থল। কোনো প্রকার টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি বা নিয়োগ বাণিজ্য আমার এলাকায় বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি ইউনিয়নে অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হবে, যেখানে নাগরিকরা সরাসরি তাঁদের সমস্যার কথা আমাকে জানাতে পারবেন।
মুক্ত প্রভাত: তরুণ প্রজন্ম ও কর্মসংস্থান নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী?
অধ্যাপক আবদুল হাকিম: আমাদের যুবকরাই আগামীর বাংলাদেশ। শুধু ডিগ্রি নিয়ে বসে থাকলে চলবে না, তাদের কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করতে হবে। আমি গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামে আইটি পার্ক এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। স্থানীয় ক্ষুদ্র শিল্পে প্রণোদনা দিয়ে হাজার হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করব। মাদক ও জুয়ার গ্রাস থেকে তরুণদের রক্ষা করে খেলার মাঠ ও পাঠাগার ভিত্তিক সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা ফিরিয়ে আনব।
মুক্ত প্রভাত: সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং সম্প্রীতি নিয়ে আপনার বার্তা কী?
অধ্যাপক আবদুল হাকিম: ইসলাম শিখিয়েছে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। আমার নির্বাচনী এলাকায় হিন্দু বা অন্য কোনো ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনরা কোনোভাবেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক নন। তাঁরা আমাদের ভাই। তাঁদের জান-মাল ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার ঈমানি দায়িত্ব। আমি চাই এমন একটি নাটোর-৪, যেখানে মানুষ পরিচয়ে আমরা সবাই এক থাকব। কোনো ভেদাভেদ নয়, আমাদের লড়াই শুধু বৈষম্য আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে।

মুক্ত প্রভাত: ভোটারদের প্রতি আপনার শেষ অনুরোধ কী?
অধ্যাপক আবদুল হাকিম: আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ—আবেগ নয়, বিবেক দিয়ে বিচার করুন। কে আপনার বিপদে পাশে ছিল, কার চারিত্রিক সততা প্রশ্নাতীত, তাকেই বেছে নিন। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি দুর্নীতিমুক্ত, উন্নত এবং শান্তিময় নাটোর-৪ গড়ে তুলি। ইনশাআল্লাহ, বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।