—ছবি সংগৃহিত
২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অত্যন্ত কড়া ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন।
শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
‘বিশ্বকাপ বয়কট এক ঐতিহাসিক ভুল’
নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে বিসিবির অস্বীকৃতি জানানোকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন শ্রিংলা। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আমার অনেক বন্ধু আছে। আমি সেখানকার হাইকমিশনার ছিলাম। তারা অনেক বড় ভুল করেছে। এই সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অবস্থা ও সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গনের পরিবেশ আরও খারাপ হবে।”
শ্রিংলা সরাসরি বর্তমান সরকারকে নিশানা করে বলেন, “তাদের সরকার নির্বাচিত নয়। এটা অন্তর্বর্তী সরকার। তারা নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসেনি; বরং ক্ষমতা দখল করেছে। এমন সরকারের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত দেশের জন্য ক্ষতিকর।”
জামায়াত ও নির্বাচন নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য
বাংলাদেশের রাজনীতি ও জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে রাজ্যসভার এই সদস্য বলেন, শুধুমাত্র পক্ষপাতদুষ্ট ও সহিংস নির্বাচন হলেই জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে। তার মতে, “জামায়াত ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনে’ কখনো জিততে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। অতীতে তারা কখনোই ৫ থেকে ৭ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। অন্য দল তাদের সহায়তা করে সামনে নিয়ে আসছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “নির্বাচনে বড় ধরনের অনিয়ম হলেই তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে, নয়তো এটা অসম্ভব।”
প্রেক্ষাপট: আইসিসি ও বাংলাদেশের অনড় অবস্থান
এদিকে আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেবে। বিসিবি ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারতের মাটিতে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেও, আইসিসি তা ‘যাচাইযোগ্য নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর সৃষ্ট উত্তেজনাই শেষ পর্যন্ত বিসিবিকে এই কঠোর অবস্থানে নিয়ে যায়।
বিশ্লেষণ
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শ্রিংলার এই মন্তব্য দুই দেশের বিদ্যমান শীতল সম্পর্কের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একদিকে নিরাপত্তার অজুহাতে বিশ্বকাপ বর্জন, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশের প্রভাবশালী সাবেক কূটনীতিকের এমন সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণ—সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রীড়া ও রাজনীতি এখন