—ছবি মুক্ত প্রভাত
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম মণ্ডলের যোগসাজশে কাব্যতীর্থ বিষয়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষক হরি প্রসাদ রায় তিন মাসের বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ক্লাসে শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অনুপস্থিতির চিত্র ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক উপস্থিতি খাতায় গত অক্টোবর মাসের শেষ থেকে চলতি জানুয়ারি পর্যন্ত হরি প্রসাদ রায়ের কোনো স্বাক্ষর নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষকের প্রত্যক্ষ সহযোগিতার কারণেই কোনো প্রকার ছুটি বা বৈধ কারণ ছাড়াই তিনি অনুপস্থিত থাকার সাহস পাচ্ছেন।
শিক্ষার্থী শ্রী সুব্রত চন্দ্র বর্মন ও শ্রী শ্রাবণ কুমার আক্ষেপ করে বলেন, "ভর্তি হওয়ার পর থেকে হরি স্যারকে ক্লাসে পাইনি। প্রধান শিক্ষককে জানিয়েও লাভ হচ্ছে না। স্যার নাকি বলেছেন, ক্লাসে না এলেও এবং পরীক্ষায় না লিখলেও পাস করিয়ে দেবেন। এভাবে চললে আমরা তো কিছুই শিখতে পারব না।"
প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য ও দুর্নীতির অভিযোগ
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম মণ্ডল বলেন, "শিক্ষক অসুস্থ বলে জানিয়েছেন। তিনি চিকিৎসার কাগজপত্র দিলে তাকে শোকজ করা হবে।" দীর্ঘদিন ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি না থাকাকে দায়ী করেন।
উল্লেখ্য, সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য এই প্রতিবেদককে আর্থিক সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টাও করেন প্রধান শিক্ষক। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০৮ সালে রেজাউল করিম যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়টি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। গত বছর তার পদত্যাগের দাবিতে এলাকাবাসী আন্দোলন করলেও তিনি বহাল তবিয়তে আছেন।
ভঙ্গুর একাডেমিক অবস্থা
স্থানীয় বাসিন্দা অমিত রায়হান ও লিচু মিয়া জানান, এক সময়কার নামী এই স্কুলটি এখন মান হারিয়েছে। বিদ্যালয়ে ফলাফল বিপর্যয় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে পুকুরের পানি দিয়ে ছাত্রদের খেলাধুলা বন্ধ করে দেওয়ার মতো অমানবিক কাজও করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
জেলা শিক্ষা অফিসারের আশ্বাস
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আতাউর রহমান বলেন, "বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"