—ছবি সংগৃহিত
চট্টগ্রাম তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম জেলার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সামগ্রিক মূল্যায়নে চট্টগ্রাম জেলা ১০০ নম্বরের মধ্যে মাত্র ১৬ শতাংশ নম্বর পেয়েছে।
বুধবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় আইএসডিই বাংলাদেশ-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, ইলমা ও আইএসডিই-এর যৌথ উদ্যোগে এই ‘শেয়ারিং মিটিং’ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবেদনের মূল তথ্য
২০২৪ সালে দেশের ২০টি জেলার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আইএসডিই-এর ইন্টার্ন মোঃ সাইমন ইসলাম। প্রতিবেদনে চট্টগ্রামের পিছিয়ে থাকার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়:
টাস্কফোর্স কমিটির নিষ্ক্রিয়তা: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে টাস্কফোর্স কমিটির নিয়মিত সভা না হওয়া।
আইনের লঙ্ঘন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে অবাধে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি।
বিজ্ঞাপন ও সাইনেজ: তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপনের ওপর দুর্বল নিয়ন্ত্রণ এবং ‘নো-স্মোকিং’ সাইনেজের ব্যাপক ঘাটতি।
মোবাইল কোর্ট: নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার হার নগণ্য হওয়া।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও মন্তব্য
সভার সভাপতি ও ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও এর বাস্তবায়ন এখনও কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। তামাক কোম্পানিগুলো সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (MRP) লঙ্ঘন করে সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, শিশুদের মাধ্যমে বা শিশুদের কাছে তামাক বিক্রি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বড় হুমকি।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এম নাসিরুল হক এবং ইলমার নির্বাহী পরিচালক জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ কেবল একটি সংস্থার কাজ নয়; জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এটি সম্ভব নয়।
সুপারিশসমূহ
সভা থেকে তামাকমুক্ত সমাজ গড়তে বেশ কিছু দাবি ও সুপারিশ উত্থাপন করা হয়: ১. তামাক বিক্রির ক্ষেত্রে দ্রুত লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু করা। ২. তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা। ৩. জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম জোরদার করা। ৪. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় তামাক বিক্রি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
সভায় বক্তারা জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও শক্তিশালী করার এবং তামাক কোম্পানিগুলোর হস্তক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানান।