—ছবি সংগৃহিত
মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উল্লাসের লাল-সবুজ রঙ। ১৮তম ওভারে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর বলে মিডউইকেটে ক্যাচটা লুফে নিতেই শুরু হলো রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জয়োৎসব।
দ্বাদশ বিপিএলের ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো রাজশাহী।
তানজিদ তামিমের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরি
টসে হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে রাজশাহীর শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম আজ মিরপুরে ব্যাটে ঝড় তোলেন। মাত্র ৬২ বলে ১০০ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি, যা বিপিএল ফাইনালের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় সেঞ্চুরি (এর আগে ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবাল এই কীর্তি গড়েছিলেন)। তানজিদকে যোগ্য সঙ্গ দেন সাহিবজাদা ফারহান (৩০) এবং কেইন উইলিয়ামসন (২৪)। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে রাজশাহী ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রানের বিশাল পুঁজি পায়।
রাজশাহীর ব্যাটিং একনজরে:
তানজিদ হাসান: ১০০ (৬২ বল)
সাহিবজাদা ফারহান: ৩০ (৩০ বল)
কেইন উইলিয়ামসন: ২৪ (১৫ বল)
মুকিদুল মুগ্ধ ও শরিফুল ইসলাম: ২টি করে উইকেট।
বিনুরার বোলিং তোপে লণ্ডভণ্ড চট্টগ্রাম
১৭৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস। রাজশাহীর লঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দোর বোলিং তোপে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বন্দরনগরীর দলটি। ওপেনার মির্জা তাহির বেগ ৩৯ রান করলেও দলের অন্য কেউ তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি। মাত্র ১১১ রানেই অলআউট হয়ে যায় চট্টগ্রাম।
বিনুরা ফার্নান্দো মাত্র ৯ রান খরচ করে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া হাসান মুরাদ ৩টি ও জিমি নিশাম ২টি উইকেট নিয়ে চট্টগ্রামের হার নিশ্চিত করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ১৭৪/৪ (২০ ওভার)
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১১১/১০ (১৭.৫ ওভার)
ফলাফল: রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৬৩ রানে জয়ী।
এক নজরে জয়োৎসব
ম্যাচ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই মাঠের ভেতরে ছুটে আসেন রাজশাহীর কোচ, কর্মকর্তা ও বদলি খেলোয়াড়রা। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো ভক্তের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে মিরপুর। এটি রাজশাহীর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় শিরোপা (এর আগে ২০১৯-২০ মৌসুমে রাজশাহী রয়্যালস চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল)।