—ছবি সংগৃহিত
রংপুর আসন্ন গণভোটকে একটি গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে তা বানচালের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী জিএম কাদের।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে দেশের প্রচলিত শাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং একটি আজ্ঞাবহ সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে রংপুর নগরীর দর্শনার পল্লীনিবাসে দলীয় প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
‘বিপ্লবী সরকার’ গঠনের আশঙ্কা
জিএম কাদের অভিযোগ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও তাদের নিয়োগদাতারা (সমন্বয়ক ও সহযোগী দলগুলো) পরিকল্পিতভাবে মাঠ সাজিয়েছে। তিনি বলেন, “জনগণ ভোট দিক বা না দিক, সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে হলেও তারা ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী করবে। এর মাধ্যমে তারা একটি ‘বিপ্লবী সরকার’ গঠন করতে চায়। যদি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়, তবে নতুন নির্বাচিত সংসদ ও সরকারকে এই বিপ্লবী সরকারের হুকুম মেনে চলতে হবে। সংসদ হবে কেবল আজ্ঞাবহ একটি প্রতিষ্ঠান।”
জুলাই সনদ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
জিএম কাদের ‘জুলাই সনদ’ পাস করানোর প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সংস্কারের বিপক্ষে আমরা নই, কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় সংস্কার চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে তার ভেতরে বড় ধরনের ফাঁক-ফোকর রয়েছে। জুলাই সনদ পাসের নামে তারা বছরের পর বছর ক্ষমতা দখল করে থাকার পরিকল্পনা করছে। এটি দেশের সাধারণ মানুষের ওপর একপ্রকার ধোঁকাবাজি।”
তিনি আরও মন্তব্য করেন, “গণঅভ্যুত্থানকে বর্তমান সরকার ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ বলছে। সমন্বয়করাই এই সরকারের নিয়োগদাতা। মূলত জামায়াত এবং তাদের কিছু অঙ্গসংগঠন মিলে এখন দেশে একতরফা শাসন ও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।”
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নির্মূলের শঙ্কা
জিএম কাদের আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দেশে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “বিচারের নামে প্রহসন করে আগামীতে আরেক দফা গণহত্যা হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোকে বিলীন করার এই হীন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে এখনই সচেতন হতে হবে।”
নির্বাচনী প্রচারণা শুরু
নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর প্রথম দিনেই এরশাদের কবর জিয়ারত করেন জিএম কাদের। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ইয়াসির আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক এবং জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। জিয়ারত শেষে তিনি দেশের সমৃদ্ধি এবং জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।