—ছবি মুক্ত প্রভাত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জোড়া খুনের জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে ব্যাপক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে পুরো এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে এবং জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জানুয়ারি ধরমন্ডল এলাকায় সাবেক ইউপি সদস্য জিতু মেম্বার ও কুতুবউদ্দিনের গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে জিতু মেম্বার গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। একই ঘটনায় আহত জিতু মেম্বারের ভাতিজা খলিল মিয়া সিলেটের নূরজাহান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল ভোর সাড়ে ৬টায় মৃত্যুবরণ করেন।
হামলা ও অগ্নিসংযোগ
খলিল মিয়ার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জিতু মেম্বারের গোষ্ঠীর লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ কুতুবউদ্দিনের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা কুতুবউদ্দিনের পক্ষের শাহীন মিয়া, আমির আলী, শিশু মিয়া, অলিল মিয়া, শাহ আলম, ছোট্ট মিয়া ও নশাই মিয়ার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ
ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা তাদের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, “ওরা আমাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে সব শেষ করে দিয়েছে, আমরা এখন পথে বসে গেছি।”
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থা
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল ইসলাম জানান, “হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”