—ছবি সংগৃহিত
২২ জানুয়ারি ২০২৬ জনসাধারণ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক ২৫ বছর মেয়াদি ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫’ (ইপিএসএমপি) অনুমোদনের উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে আয়োজিত এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা এই পরিকল্পনাকে ‘জনবিরোধী ও অস্বচ্ছ’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানান।
বাংলাদেশ প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি)-এর উদ্যোগে এবং আইএসডিই বাংলাদেশ, প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-চট্টগ্রাম ও ক্লিন (CLEAN)-এর সহ-আয়োজনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অস্বচ্ছতা ও স্বৈরাচারী নীতির পুনরাবৃত্তির অভিযোগ
ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে নাগরিক সমাজ ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। এটি পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী সরকারের অস্বচ্ছ ও দায়মুক্তিমূলক নীতি প্রণয়নেরই পুনরাবৃত্তি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কোনো অর্থবহ অংশগ্রহণমূলক পরামর্শ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।”
বক্তারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব ছিল নিয়মিত রাষ্ট্র পরিচালনা করা, কিন্তু তারা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি পরিকল্পনা চাপিয়ে দিচ্ছে।
মহাপরিকল্পনার অসংগতি ও পরিবেশগত ঝুঁকি
প্রতিবাদ সভায় পরিকল্পনার বিভিন্ন কারিগরি ও পরিবেশগত ত্রুটি তুলে ধরা হয়:
মিথ্যা তথ্যের প্রচার: নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ কাগজে ৪৪% দেখানো হলেও বাস্তবে তা মাত্র ১৭%।
জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা: ২৫ বছর পরও এলএনজি, কয়লা ও তেলের ওপর ৫০% নির্ভরতা বজায় রাখা হয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি।
ড. ইউনুসের দর্শনের পরিপন্থী: এই পরিকল্পনায় ২০৫০ সালে কার্বন নির্গমন হবে ১৮৬.৩ MtCO₂e, যা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষিত ‘শূন্য কার্বন’ দর্শনের সম্পূর্ণ বিরোধী।
ব্যয়বহুল প্রযুক্তি: হাইড্রোজেন বা কার্বন ক্যাপচারের মতো পরীক্ষামূলক ও ব্যয়বহুল প্রযুক্তিকে সমাধান হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা দেশকে ঋণের জালে ফেলবে।
নাগরিক সমাজের চার দফা দাবি
প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়: ১. অবিলম্বে ইপিএসএমপি ২০২৫ স্থগিত ও সম্পূর্ণ বাতিল করা। ২. বিশেষজ্ঞ ও জনগণের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করা। ৩. জীবাশ্ম জ্বালানি কমিয়ে বাস্তবসম্মত ১০০% নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ প্রণয়ন করা। ৪. পরিবেশবান্ধব ও সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করা।
সংহতি প্রকাশ
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এম নাসিরুল হক, নারী নেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু, ডা. লুসি খান, মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর, ক্যাব মহানগরের জান্নাতুল ফেরদৌস, আবু হানিফ নোমান প্রমুখ। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, এই পরিকল্পনা সংশোধন না করলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে।