—ছবি সংগৃহিত
নাটোর নাটোর-২ (সদর) আসনে নির্বাচনী গণসংযোগকালে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের চড়থাপ্পড় মেরে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নাটোর মাদ্রাসা মোড়ে জোটের প্রার্থী ইউনুস আলীর নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়।
জামায়াতের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক আতিকুল ইসলাম। তিনি জানান, বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার ছাতনি ইউনিয়ন সেন্টার মোড়ে নারী কর্মীরা ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে শান্তিপূর্ণ গণসংযোগ করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা তাঁদের পথ রোধ করে চড়থাপ্পড় মারেন এবং ওই এলাকায় ভোট চাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ঘটনার পর ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জসিম মুঠোফোনে জামায়াত নেতা আক্তার হোসেনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই এলাকা থেকে দাঁড়িপাল্লার ব্যানার-ফেস্টুন সরানোর হুমকি দেন। অন্যথায় সেগুলো ছিঁড়ে ফেলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
১০-দলীয় জোটের প্রার্থী ইউনুস আলী এই ঘটনাকে ‘ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড’ অভিহিত করে বলেন, “প্রচারণা শুরুর দিনই এই আচরণ আমাদের ব্যথিত করেছে। আমরা চাই প্রশাসন অবিলম্বে দায়ীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিক।”
বিএনপির পাল্টা বক্তব্য
তবে নারী কর্মীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ। তিনি বলেন, “আমার বাড়ি ওই এলাকাতেই। সেখানে কাউকে লাঞ্ছিত করা হয়নি। তবে ওই নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছিলেন। এতে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হওয়ায় তাঁরা বাধা দিয়েছেন মাত্র।”
পুলিশের পদক্ষেপ
নাটোর সদর থানার পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।