—ছবি সংগৃহিত
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে 'বিদ্রোহী' হিসেবে নির্বাচনের মাঠে থেকে যাওয়া ৫৯ জন প্রভাবশালী নেতাকে একযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
মনোনয়ন প্রত্যাহারে ব্যর্থদের ওপর খড়্গ
নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় পার হওয়ার পরও যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়াননি, তাদের বিরুদ্ধেই এই চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হলো।
বহিষ্কৃতদের তালিকায় হেভিওয়েট নেতারা
বহিষ্কৃতদের তালিকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা রয়েছেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন:
উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় নেতা: চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদ (টাঙ্গাইল-৩), নির্বাহী কমিটির সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক (দিনাজপুর-৫), তাইফুল ইসলাম টিপু (নাটোর-১) এবং শেখ সুজাত মিয়া (হবিগঞ্জ-১)।
বিভাগীয় পরিসংখ্যান: বহিষ্কৃতদের মধ্যে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম বিভাগেও বড় বড় নেতাদের পদ খোয়াতে হয়েছে।
বিশেষ নাটকীয়তা নাটোরে
বহিষ্কারের তালিকায় থাকা নাটোর-১ আসনের প্রার্থী ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজনের ক্ষেত্রে এক নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, তিনি প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র ১০ মিনিট পরে আবেদন জমা দিতে গিয়েছিলেন, যা নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করেনি। ফলে কারিগরি কারণেও তাকে বহিষ্কারের মুখে পড়তে হয়েছে।
বিভাগওয়ারী বহিষ্কৃতদের খণ্ডচিত্র:
১. ঢাকা বিভাগ: অধ্যাপক রেজাউল করিম (নারায়ণগঞ্জ-৩), লুৎফর রহমান খান আজাদ (টাঙ্গাইল-৩) ও অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালসহ মোট ৯ জন। ২. রাজশাহী বিভাগ: তাইফুল ইসলাম টিপু ও জাকারিয়া পিন্টুসহ মোট ৮ জন। ৩. ময়মনসিংহ বিভাগ: সালমান ওমর রুবেল ও শেখ মজিবুর রহমান ইকবালসহ ৭ জন। ৪. ফরিদপুর বিভাগ: রাজবাড়ী-২ এর নাসিরুল হক সাবুসহ ৭ জন। ৫. খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগ: মনিরুল ইসলাম (নড়াইল-২) এবং লিয়াকত আলী চেয়ারম্যানসহ (চট্টগ্রাম-১৬) বেশ কয়েকজন জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতা।
হাইকমান্ডের বার্তা
বিএনপির হাইকমান্ড থেকে এই বহিষ্কারের মাধ্যমে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠানো হয়েছে যে, দলের কৌশলগত সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ ব্যক্তিগত নির্বাচনে অংশ নিলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই গণ-বহিষ্কারের ফলে নির্বাচনী মাঠে বিএনপি সমর্থিত একক প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করা সহজ হলেও তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোতে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।