—ছবি সংগৃহিত
বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ভেন্যু নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক এবং নিরাপত্তা বিতর্ক এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরানোর আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করলেও, হাল ছাড়তে নারাজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম এখনো কোনো এক ‘অলৌকিক’ পরিবর্তনের আশায় বুক বেঁধে আছেন।
ভোটাভুটি থেকে বিসিবির সরে দাঁড়ানো
গতকালের দেড় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস বোর্ড মিটিংয়ের নেপথ্য ঘটনা সামনে এনেছেন বিসিবি সভাপতি। তিনি জানান, ভারত সফরের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘক্ষণ ব্যাখ্যা দিলেও আইসিসি অনড় অবস্থানে ছিল।
শেষ পর্যন্ত বিষয়টি ভোটাভুটিতে গড়ালে বিসিবি তাতে অংশ না নিয়ে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। আমিনুল ইসলাম বলেন, "আমরা ভোটাভুটিতে গিয়ে তিক্ততা বাড়াতে চাইনি, বরং আমাদের আপত্তির কারণগুলো যৌক্তিকভাবে তুলে ধরেছি।"
আয়ারল্যান্ড-জিম্বাবুয়ের সাথে অদলবদল প্রস্তাব
বিসিবি কেবল আপত্তিই জানায়নি, সমাধানের বিকল্প পথও বাতলে দিয়েছিল। আমিনুল ইসলামের প্রস্তাব ছিল, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতে না রেখে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হোক। প্রয়োজনে আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের সাথে গ্রুপ অদলবদল (Swap) করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে শ্রীলঙ্কা তাদের গ্রুপ বিন্যাস পরিবর্তনে রাজি না হওয়ায় বিষয়টি জটিল হয়ে পড়ে।
"ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়"
খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করতে রাজি নয় বিসিবি এবং বাংলাদেশ সরকার। সভাপতির বক্তব্যে তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে— "বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে চায়, সরকারও চায় দল মাঠে নামুক। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত আমাদের ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপদ ভেন্যু হতে পারে না। আমরা আমাদের সিদ্ধান্তে অনড় যে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় হওয়া উচিত।"
সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আইসিসি
আইসিসি তাদের প্রেস রিলিজ দিয়ে দিলেও বিসিবি সভাপতির অনুরোধে বাংলাদেশকে শেষবারের মতো ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার একটি 'উইন্ডো' বা সময় দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিসিবি বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে পুনরায় আলোচনা করবে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, "সরকার যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তারা কেবল ১১ জন খেলোয়াড়ের কথা ভাবে না, পুরো দেশের স্বার্থ ও ভাবমূর্তির কথা বিবেচনা করে। আমি সরকারের ওপর চাপ দেব না, তবে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইসিসিকে দ্রুত জানিয়ে দেব।"
অলৌকিক কি ঘটবে?
ক্রিকেট মহলে এখন প্রশ্ন—বিসিবির এই অনড় অবস্থান কি টুর্নামেন্টের সূচিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে? নাকি আইসিসির অনড় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বিকল্প কঠিন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে? ক্রিকেট প্রেমীদের নজর এখন পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার দিকে।