—ছবি মুক্ত প্রভাত
দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে ৯ম জাতীয় বেতন কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন এই কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আমূল পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে।
বেতনে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সুপারিশ: কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের প্রতিবেদনে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সাথে সংগতি রেখে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত।
২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে সর্বনিম্ন (২০তম গ্রেড) বেতন ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ (১ম গ্রেড) বেতন ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা বেতন বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে।
পেনশন ও ভাতায় বড় চমক: প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নিম্ন আয়ের পেনশনভোগীদের ওপর। যারা বর্তমানে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাচ্ছেন, তাদের পেনশন একলাফে ১০০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা ভাতা ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা এবং বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০% থেকে বাড়িয়ে ৫০% করার জোরালো সুপারিশ রয়েছে।
বাস্তবায়নের সময়কাল: অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই নতুন বেতন কাঠামো চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক এবং আগামী ১ জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার এই লক্ষ্য পূরণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ইতিমধ্যে ২২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রেখেছে।