—ছবি সংগৃহিত
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কর্মরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইনের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বাবার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগে তদন্তের দাবি উঠেছে।
গত ১৮ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বাসিন্দা মো. জাবেদ আলম।
অভিযোগের মূল বিষয়সমূহ:
অবৈধ সম্পদ ও আলিশান ভবন: অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই রাশেদ হোসাইন অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন। কালিয়াকৈরের সফিপুরে প্রায় সাত শতাংশ জমির ওপর কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেছেন তিনি। কালিয়াকৈর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মোতালেব জানিয়েছেন, এই বিশাল ভবনটি নির্মাণের জন্য পৌরসভা থেকে কোনো অনুমোদন বা প্ল্যান পাস করা হয়নি।
মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে ধোঁয়াশা: রাশেদ হোসাইন নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করে চাকরিতে কোটা সুবিধা ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে কালিয়াকৈর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, ওই এলাকায় ‘আবুল হোসেন (পিতা ইসহাক)’ নামে কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে তিনি চেনেন না। স্থানীয়রা এই পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ভূমি দখল ও সিন্ডিকেট: অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাশেদ হোসাইন অবৈধ অর্থের জোরে এক প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। এছাড়া শ্যামনগর ভূমি অফিসে তার ছত্রছায়ায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যেখানে টাকা ছাড়া নামজারি বা মিসকেস সংক্রান্ত কোনো কাজ হয় না বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।
অভিযুক্তের বক্তব্য:
এসিল্যান্ড রাশেদ হোসাইন তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "বাড়িটি পারিবারিকভাবে সবার অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।" সংবাদটি প্রচার না করার জন্য তিনি অনুরোধও জানান।
জনমনে প্রতিক্রিয়া:
অভিযোগকারী জাবেদ আলম জানান, রাশেদ হোসাইনের অনিয়মের প্রতিবাদ করলে সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় এলাকাবাসী এখন ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।
সংবাদদাতা