—ছবি সংগৃহিত
ইনকিলাব মঞ্চের প্রয়াত আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারের আবাসনের জন্য এক কোটি টাকা বিশেষ অনুদান অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এই সংক্রান্ত নথিপত্রে স্বাক্ষর করেন।
অনুদান ও আবাসন সুবিধা
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর লালমাটিয়ায় অবস্থিত সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন ‘দোয়েল টাওয়ার’-এ একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ২১৫ বর্গফুটের এই ফ্ল্যাটটিতে শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রী ও সন্তানরা বসবাস করবেন।
অর্থ উপদেষ্টা জানান, “প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাষ্ট্র এই পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছে। আজ ১ কোটি টাকা অনুদানের ফাইল অনুমোদন করা হয়েছে, যা দিয়ে তারা এই ফ্ল্যাটটি বুঝে নেবেন।” এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশ মিশনে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
হাদি হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছাল
এদিকে, শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা পিছিয়েছে। আজ মঙ্গলবার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তা সম্পন্ন করতে পারেনি। ফলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ জানুয়ারি নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
মামলার প্রেক্ষাপট:
আঘাত: গত ১২ ডিসেম্বর পল্টনে নির্বাচনি প্রচারণার সময় গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদি।
মৃত্যু: উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
অভিযোগপত্র: ইতিপূর্বে ডিবি পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিলেও বাদীপক্ষ নারাজি আবেদন করায় আদালত মামলাটি সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়।
প্রধান আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে
পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর শেখ বর্তমানে ভারতে পলাতক রয়েছেন। তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তর্জাতিক মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করছে সরকার। তবে ফয়সাল করিমের মা, স্ত্রী ও শ্যালকসহ বেশ কয়েকজন সহযোগী বর্তমানে কারাগারে আটক আছেন।