—ছবি সংগৃহিত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোট নিয়ে নিজেদের কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করেছে জাতীয় পার্টি (জাপা)।
আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ঘোষণা করেছেন, তারা সংবিধান সংস্কারের বিপক্ষে ‘না’ ভোট দেবেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের সাধারণ মানুষকেও আইনের শাসনের স্বার্থে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রার্থী ঘোষণা ও ‘লাঙল’ প্রতীকের সমীকরণ
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৯৬টিতে জাতীয় পার্টির বৈধ প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, এই ১৯৬টি আসনে ‘লাঙল’ প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা নির্বাচনি মাঠে থাকবেন।
সংবিধান সংস্কার ও গণভোট নিয়ে উদ্বেগ
জি এম কাদের সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’-এর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “এই সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশ অচল হয়ে পড়বে। স্বৈরাচার ঠেকানোর নামে প্রধানমন্ত্রীর হাত-পা বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যক্তিক্ষমতা না থাকলে কোনো সরকার প্রধানই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।” তার মতে, গণভোটের মাধ্যমে নয়, বরং কেবল নির্বাচিত সংসদই সংবিধান পরিবর্তনের এখতিয়ার রাখে।
নিরাপত্তা ও ‘ফ্যাসিবাদ’ বিতর্ক
৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় পার্টিকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে অভিহিত করে ছাত্রনেতৃত্ব ও বিভিন্ন মহলের আপত্তির মুখে পড়তে হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জি এম কাদের অভিযোগ করেন:
মামলার চাপ: সরকারের পক্ষ থেকে জাপা নেতা-কর্মীদের ওপর মিথ্যে মামলার স্টিম রোলার চালানো হচ্ছে।
নির্বাচনি বাধা: নেতা-কর্মীদের প্রচারে নামলে আটকের ভয় দেখানো হচ্ছে।
নাৎসিবাদ বনাম ফ্যাসিবাদ: জি এম কাদের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘নাৎসিবাদ’ চালুর প্রচেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেন এবং বলেন, ফ্যাসিবাদের দোহাই দিয়ে আওয়ামী লীগ ও জাপার নেতা-কর্মীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
বিএনপিকে সতর্কবার্তা
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আপনারা একতাবদ্ধ না হলে আপনারাও ধ্বংস হয়ে যাবেন। হিটলারকে (নাৎসিবাদ) এখনই ঠেকাতে হবে।”
প্রসঙ্গ: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে সংবিধানের আমূল পরিবর্তন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে ভোটারদের রায় চাওয়া হবে।