—ছবি সংগৃহিত
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি ও বাণিজ্যিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে বাংলাদেশে এসেছেন আফগানিস্তানের শিল্প ও বাণিজ্য উপমন্ত্রী আহমাদুল্লাহ জাহিদ।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই আফগানিস্তানের কোনো উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের প্রথম ঢাকা সফর। এই সফরের মূল লক্ষ্য—দুই দেশের মধ্যে থমকে থাকা বাণিজ্যকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করা।
সরাসরি কার্গো ফ্লাইটের প্রস্তাব
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে আহমাদুল্লাহ জাহিদ দুই দেশের মধ্যে সরাসরি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ বা কার্গো ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী:
কাবুল থেকে উচ্চমূল্যের আফগান ফলমূল ঢাকায় আসবে।
ফিরতি ফ্লাইটে বাংলাদেশ থেকে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও অন্যান্য পণ্য কাবুলে পাঠানো হবে।
এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ওষুধ শিল্পে বিশেষ নজর
বর্তমানে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশই দখল করে আছে বাংলাদেশের ওষুধ। এই নির্ভরতাকে আরও শক্তিশালী করতে আফগান উপমন্ত্রী আগামীকাল বুধবার দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও রেনাটা লিমিটেড পরিদর্শনে যাবেন। আফগানিস্তান চায় তাদের দেশের ওষুধের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পরিমাণ মানসম্মত ওষুধ আমদানি করতে।
আফগানিস্তানে বিনিয়োগের আহ্বান
দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কাটিয়ে পুনর্গঠনের পথে থাকা আফগানিস্তানে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের অনুরোধ জানিয়েছেন উপমন্ত্রী। তিনি বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এবং শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানের বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করেন।
সফরের গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) আমন্ত্রণে পাঁচ সদস্যের এই প্রতিনিধিদল বর্তমানে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নিচ্ছে। ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানান, গত বছরের ডিসেম্বরেও আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দল বাংলাদেশের ওষুধ কারখানা পরিদর্শন করেছিল, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ দেয়।
বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, "আফগান উপমন্ত্রীর সাথে শুল্কমুক্ত সুবিধা ও বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে এসব বিষয় একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ার অংশ। আমরা তাদের আগ্রহকে ইতিবাচকভাবে দেখছি।"