—ছবি সংগৃহিত
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ চলল চট্টগ্রামের দাপট। প্রথম কোয়ালিফায়ারে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে বিপিএলের চলতি আসরের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। শেখ মেহেদি হাসানের বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্ব আর নিয়ন্ত্রিত বোলিং-ব্যাটিংয়ে কুপোকাত হলো রাজশাহী।
রাজশাহীর সংগ্রহ ও ব্যাটিং বিপর্যয়
টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক শেখ মেহেদি। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই চট্টগ্রামের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে রাজশাহী। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এক প্রান্ত আগলে রেখে ৩৭ বলে ৪১ রান (৩ চার, ১ ছক্কা) করলেও অন্য ব্যাটাররা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে।
দলের স্কোর যখন একশ পার হওয়া নিয়েই শঙ্কা ছিল, তখন ত্রাতা হয়ে আসেন আব্দুল গফফার সাকলাইন। ইনিংসের লেজে নেমে মাত্র ১৫ বলে ৩২ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি। তার ২টি চার ও ৩টি ছক্কার সৌজন্যে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৩৩ রানে থামে রাজশাহীর ইনিংস।
চট্টগ্রামের উড়ন্ত সূচনা ও জয় নিশ্চিতকরণ
১৩৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে দারুণ ভীত গড়ে দেন দুই ওপেনার মিরাজ বেগ ও মোহাম্মদ নাইম। ওপেনিং জুটিতেই আসে ৭০ বলে ৬৪ রান। নাইম ৩০ রান করে বিদায় নিলেও মিরাজ বেগ জয়ের ভিত শক্ত করেন। আউট হওয়ার আগে তিনি খেলেন ৪৫ রানের (৪৭ বল) ধৈর্যশীল এক ইনিংস।
মাঝপথে হাসান নওয়াজ (২০) এবং আসিফ আলি (১১) দ্রুত ফিরলেও চট্টগ্রামের জয় পেতে কোনো বেগ পেতে হয়নি। অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসান নিজেই ক্রিজে এসে ম্যাচের ইতি টানেন। মাত্র ৯ বলে ২টি বিশাল ছক্কায় ১৯ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ১০ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম।
লিগ সমীকরণ: কার সামনে কী সুযোগ?
এই হারের ফলে রাজশাহীর টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যায়নি। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল হওয়ায় তারা দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলার সুযোগ পাবে।
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার: আগামীকাল বুধবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এবং এলিমিনেটর জয়ী সিলেট টাইটানস।
মেগা ফাইনাল: আগামী শুক্রবার মিরপুরের হোম অফ ক্রিকেটে ফাইনালের মঞ্চে চট্টগ্রামের মুখোমুখি হবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের বিজয়ী দল।