—ছবি সংগৃহিত
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের গণভোট।
এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়নমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) দেওয়া এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় তিনি এই আহ্বান জানান।
জুলাই সনদ: নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা
প্রধান উপদেষ্টা তার বার্তায় বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন। এটি আমাদের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক অভূতপূর্ব সুযোগ এনে দিয়েছে।” তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি প্রয়োজন, আর সেজন্যই এই গণভোটের আয়োজন।
‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে কী পরিবর্তন আসবে?
অধ্যাপক ইউনূস ‘জুলাই সনদে’র মূল বৈশিষ্ট্যগুলো দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে রাষ্ট্রে নিম্নোক্ত বৈপ্লবিক পরিবর্তনগুলো আসবে:
ক্ষমতার ভারসাম্য: প্রধানমন্ত্রী এককভাবে সব ক্ষমতার অধিকারী হবেন না। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
সংসদীয় সংস্কার: সংসদে একটি ‘উচ্চকক্ষ’ গঠিত হবে এবং বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন।
সংবিধান সুরক্ষা: সরকার চাইলেই আর নিজের ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি (গণভোট) লাগবে।
তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করবে।
বিচার বিভাগ ও মৌলিক অধিকার: বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং মানুষের মৌলিক অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে। রাষ্ট্রপতির অপরাধী ক্ষমা করার একচ্ছত্র ক্ষমতা সীমিত করা হবে।
বৈচিত্র্যের স্বীকৃতি: রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষাও সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাবে।
“নতুন বাংলাদেশের চাবি এখন আপনার হাতে”
দেশবাসীকে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “রাষ্ট্রকে আপনার প্রত্যাশামতো গড়ে তোলার জন্য ‘হ্যাঁ’তে সিল দিন। নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবি এখন আপনার হাতে। নিজে ভোট দিন এবং পরিচিত সবাইকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসুন। ইনশাআল্লাহ, আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার এই সুযোগ গ্রহণ করব।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জামায়াতের শঙ্কা
প্রধান উপদেষ্টার এই ইতিবাচক বার্তার মধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্য। আজ বিকেলেই মগবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ২০০৮ সালের মতো কোনো ‘ভারসাম্যহীন’ নির্বাচন তারা মেনে নেবেন না।
একইভাবে বিএনপিও ইসির কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে সিইসি-র কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছে। একদিকে প্রধান উপদেষ্টার নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন, আর অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে শঙ্কা—সব মিলিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশ এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।