—ছবি সংগৃহিত
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে বিএনপি, এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা বিরোধী দলগুলো গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছে।
তাদের দাবি, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনোভাবেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।
শঙ্কার প্রধান কারণসমূহ
বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রধানত কয়েকটি বিষয়ে ঘোর আপত্তি ও শঙ্কা জানানো হয়েছে:
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা: বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, দলীয় সরকারের অধীনে অতীতের নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। তাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না।
প্রশাসনের ভূমিকা: বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে একতরফাভাবে সাজানো হয়েছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।
মামলা ও গ্রেফতার: এনসিপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তাদের নেতাকর্মীদের ওপর একের পর এক 'গায়েবি' মামলা দিয়ে মাঠছাড়া করার চেষ্টা চলছে।
গণভোট ও সংবিধান সংশোধনের বিতর্ক: সম্প্রতি আলোচনায় আসা 'জুলাই জাতীয় সনদ' বা বিভিন্ন সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে বিরোধী শিবিরে সংশয় রয়েছে। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ মূলত ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার কৌশল।
নেতাদের বক্তব্য
বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, "জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়। দিনের ভোট রাতে হওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে জাতি বড় ধরনের সংকটে পড়বে।" অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি একই সুরে বলছে যে, নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির আগে রাজবন্দীদের মুক্তি এবং সবার জন্য সমান সুযোগ (Level Playing Field) নিশ্চিত করতে হবে।
রাজপথের কর্মসূচি
এই শঙ্কা থেকে উত্তরণে বিরোধী দলগুলো এখন একদফার আন্দোলনে জোর দিচ্ছে। ঢাকা ও জেলা শহরগুলোতে নিয়মিত বিক্ষোভ ও সমাবেশের মাধ্যমে তারা বিশ্ববাসীর কাছে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরছেন। আন্তর্জাতিক মহলের চোখও এখন বাংলাদেশের এই টানাপোড়েনের দিকে।
সরকার পক্ষ যদিও সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বলছে নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ীই হবে, তবে বিরোধী দলগুলোর এই অনড় অবস্থান দেশের রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।