—ছবি সংগৃহিত
জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ডিএলএস পদ্ধতিতে ১৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ।
তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে এই ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে টসের সময় দুই অধিনায়কের হাত না মেলানোর ঘটনাটি।
বৃষ্টির বাধা ও ব্যাটিং ধস
বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ভারত ৪৮.৪ ওভারে ২৩৮ রানে অলআউট হয়। কয়েক দফা বৃষ্টি বাগড়া দেওয়ায় ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯ ওভারে ১৬৫ রান।
জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ এক সময় সুবিধাজনক অবস্থানেই ছিল। জয়ের জন্য শেষ ৪৮ বলে প্রয়োজন ছিল ৫৯ রান। কিন্তু ২১.২ ওভারে কালামের আউটের পর শুরু হয় চরম ব্যাটিং বিপর্যয়। শেষ ৪০ রান তুলতেই হাতে থাকা বাকি ৮ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ২৮.৩ ওভারে ১৪৬ রানে অলআউট হয়ে হার মানতে হয় আজিজুল হাকিমের দলকে।
হাত না মেলানো নিয়ে বিসিবির ব্যাখ্যা
ম্যাচের শুরুতেই দেখা দেয় এক অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য। নিয়মিত অধিনায়ক আজিজুল হাকিম অসুস্থ বোধ করায় টসে নামেন সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার। কিন্তু টস শেষে ভারতীয় অধিনায়ক আয়ুশ মাহাত্রের সঙ্গে জাওয়াদ করমর্দন না করেই মাঠ ত্যাগ করেন। দুই দেশের বর্তমান শীতল ক্রিকেটীয় সম্পর্কের মাঝে এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাতে বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং সাময়িক অসাবধানতার ফল। বিসিবি স্পষ্ট করে যে, প্রতিপক্ষ অধিনায়কের প্রতি কোনো ধরনের অশ্রদ্ধা প্রদর্শনের অভিপ্রায় দলের ছিল না। ক্রিকেটের চেতনা বজায় রাখতে টিম ম্যানেজমেন্ট ও খেলোয়াড়দের যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও বোর্ড নিশ্চিত করেছে।
প্রেক্ষাপট ও তুলনা
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনের কারণে অনেকেই একে গত এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে ভারতের ‘নো হ্যান্ডশেক’ নীতির সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে বিসিবি বিষয়টিকে একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবেই দেখছে।
মাঠে পরাজয় আর মাঠের বাইরে সৌজন্যবোধের এই বিচ্যুতি—সব মিলিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুরুটা হলো কিছুটা অম্লমধুর।