—ছবি সংগৃহীত
বাংলাদেশে অবশিষ্ট প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে কয়লা ও গ্যাস কুক্ষিগত করার লক্ষ্যে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলো ধারাবাহিকভাবে গভীর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি দাবি করেছেন, এই চক্রান্তের অংশ হিসেবেই দেশের স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন প্রকল্প জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন উপলক্ষে বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল ফোরাম, ঢাকা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
দেশবিরোধী প্রকল্পের তীব্র সমালোচনা
ভারতের ঝাড়খন্ড থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, "ঝাড়খন্ডের যে বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি একসময় খোদ ভারত সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বাতিল করে দিয়েছিল, সেই বিতর্কিত ও ক্ষতিকর প্রকল্পটিই গত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশের রামপালে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।" তিনি এই ধরনের উদ্যোগকে স্পষ্টভাবে 'দেশবিরোধী' এবং 'জাতীয় স্বার্থ পরিপন্থী' হিসেবে অভিহিত করেন। রিজভীর মতে, এ ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতকে বিদেশের ওপর নির্ভরশীল করে তোলার নীল নকশা করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার ওপর নির্যাতনের নেপথ্য কারণ
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক বন্দিত্বের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, "বেগম খালেদা জিয়াকে দিয়ে কখনোই কোনো দেশবিরোধী প্রকল্প বাস্তবায়ন করানো সম্ভব ছিল না। তিনি সর্বদা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকারকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আর সে কারণেই তাকে রাজনৈতিকভাবে দমন করতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছিল।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কারাবন্দি অবস্থায় খালেদা জিয়াকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা সরকার ও তার দোসররা করেছিল বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, "দেশনেত্রী জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে গেছেন এবং মাথা নত করেননি।"
গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামের আহ্বান
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে খালেদা জিয়ার নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো সাধারণ মানুষের জন্য তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সজাগ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।