—ছবি সংগৃহীত
আজ পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা শবে মেরাজ। ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অলৌকিক এই রাতটি আজ যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করবেন বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
হিজরি সনের রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহর প্রিয় রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর দিদার লাভের উদ্দেশ্যে আরশে আজিমে গমন করেছিলেন। নবুওয়াতের দশম বছরে (৬২১ খ্রিষ্টাব্দে) সংঘটিত এই ঘটনায় মহানবী (সা.) প্রথমে পবিত্র কাবা শরিফ থেকে ফিলিস্তিনের মসজিদুল আকসায় গমন করেন (ইসরা) এবং সেখান থেকে বিশেষ বাহন 'বুরাক'-এ আরোহণ করে ঊর্ধ্বাকাশে (মেরাজ) গমন করেন। এই মহিমান্বিত রাতেই উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়।
বিশেষ কর্মসূচি
পবিত্র শবে মেরাজ উপলক্ষে দেশজুড়ে মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠন আলোচনা সভা, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করেছে।
জাতীয় মসজিদ: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আজ বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইবাদত-বন্দেগি: আজ রাতভর ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজগার ও বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।
তাৎপর্য
পবিত্র কোরআনে এই বিস্ময়কর ভ্রমণকে 'ইসরা' ও 'মিরাজ' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি মহানবী (সা.)-এর জীবনের শ্রেষ্ঠ মুজিজা এবং ইসলামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। আল্লাহর নির্দেশিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের উপহার নিয়ে রাসুল (সা.) এই রাতেই পৃথিবীতে ফিরে এসেছিলেন, যা মুমিনদের জন্য মহান আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত।