—ছবি সংগৃহিত
দীর্ঘ নাটকীয়তা আর দফায় দফায় বৈঠকের পর অবশেষে আত্মপ্রকাশ করল ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’। তবে ঘটা করে আয়োজিত ঘোষণা মঞ্চে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের জন্য চেয়ার রাখা হলেও, তিনি বা তাঁর দলের কোনো প্রতিনিধি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হননি।
ফলে ১১ দলের নাম ঘোষণা করা হলেও কার্যত ১০ দলের সমঝোতা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত দেখা যাচ্ছে।
আসন বণ্টনের বিস্তারিত: আজ বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসন সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। ঘোষিত ২৫০ আসনের বিন্যাস নিম্নরূপ:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ১৭৯টি আসন
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ৩০টি আসন
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (মামুনুল হক): ২০টি আসন
খেলাফত মজলিস (আহমদ আবদুল কাদের): ১০টি আসন
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি): ৭টি আসন
এবি পার্টি: ৩টি আসন
বিডিপি: ২টি আসন
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি: ২টি আসন (জাগপা ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সমঝোতা হলেও আসন সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত হয়নি)
ইসলামী আন্দোলনকে নিয়ে ধোঁয়াশা ও প্রত্যাশা: ব্যানারে ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ লেখা থাকলেও ইসলামী আন্দোলনের অনুপস্থিতি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এ বিষয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, "জোট ভাঙেনি, এটি আসলে একটি নির্বাচনী ঐক্য। একটি দল সূচনায় আমাদের সাথে ছিল, এখন হয়তো নিজেদের মধ্যে আরও বোঝাপড়া করছে। তাদের জন্য দরজা খোলা আছে এবং আমরা আশা করছি তারা শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকবেন।"
আগামীকাল ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন: সমঝোতা নিয়ে সৃষ্ট টানাপোড়েন ও দলের অবস্থান পরিষ্কার করতে আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় পুরানা পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তাদের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে এই ঐক্যের পূর্ণাঙ্গ রূপ।
নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি: সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মাওলানা মামুনুল হক, নাহিদ ইসলামসহ জোটভুক্ত দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ। সংবাদ সম্মেলন শেষে নেতারা হাতে হাত রেখে ঐক্যের বার্তা দেন এবং নেতা-কর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে মিলনায়তন।