—ছবি সংগৃহিত
ফিলিস্তিনের গাজায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে (ISF) বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে কয়েকটি মৌলিক শর্তের ওপর নির্ভর করছে।
আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে সরকারের এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছেন।
কেন এই প্রস্তাবিত বাহিনী?
২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে 'ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স' (ISF) গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবের পক্ষে সকল মুসলিম দেশ ভোট দিয়েছিল এবং আরব দেশগুলোর পক্ষ থেকে যৌথ সুপারিশ ছিল। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ শান্তি রক্ষাকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই উদ্যোগকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
বাংলাদেশের ৪টি প্রধান শর্ত
শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি অবিচল থেকে বাংলাদেশ এই বাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী, তবে তা অবশ্যই নিচের শর্তগুলো পূরণ সাপেক্ষে হতে হবে: ১. জাতিসংঘের ম্যান্ডেট: বাহিনীটি অবশ্যই অস্থায়ী হতে হবে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেটের অধীনে পরিচালিত হতে হবে। ২. স্থায়ী যুদ্ধবিরতি: গাজায় একটি কার্যকর ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি থাকতে হবে। ৩. সেনা প্রত্যাহার: গাজার ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সকল সদস্যকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করতে হবে। ৪. ফিলিস্তিনিদের ক্ষমতা: গাজার শাসন ও সার্বিক দায়দায়িত্ব ফিলিস্তিনিদের কাছেই হস্তান্তর করতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান
প্রেস সচিব তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন যে, ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে 'আল কুদস আল শরিফ' (জেরুজালেম)-কে রাজধানী করে একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন অপরিবর্তিত থাকবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে এই আন্তর্জাতিক বাহিনীর অংশ হতে বাংলাদেশের নীতিগত আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেছিলেন।