—ছবি সংগৃহিত
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
শনিবার এক বিবৃতিতে তারা জাতীয় নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ বা চরম সীমা হিসেবে ঘোষণা করে দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা যেকোনো মূল্যে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ও সরকারি সম্পদ রক্ষা করবে।
‘নিরাপত্তা নিয়ে আপস নয়’
শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অর্জন রক্ষা করা এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।
বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে তারা দাবি করেছে, গত কয়েক রাতে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মী ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।
সংঘাত ও প্রাণহানি
দুই সপ্তাহ আগে তীব্র মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে এই আন্দোলন শুরু হলেও দ্রুত তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। বর্তমানে বিক্ষোভকারীরা ধর্মীয় শাসনের অবসানের দাবি তুলছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্যমতে:
নিহত: এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫ জন।
গ্রেপ্তার: প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন।
সহিংসতা: তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরে একটি পৌর ভবনে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শিরাজ, কোম ও হামেদান শহরে নিহত নিরাপত্তা কর্মীদের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ট্রাম্পের সতর্কতা
ইরানের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকে নতুন করে সতর্ক করেছেন।
অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেছেন, "যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে রয়েছে।" তবে ইরান সরকার এই বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে।
বর্তমান পরিস্থিতি: ব্ল্যাকআউট ও সেনা মোতায়েন
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। পশ্চিম ইরানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকহারে বিপ্লবী গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিয়মিত গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।
সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সরাসরি কমান্ডে পরিচালিত সামরিক বাহিনীও ঘোষণা করেছে যে, তারা জাতীয় স্বার্থ ও কৌশলগত অবকাঠামো রক্ষায় সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে।
এক নজরে বর্তমান অবস্থা:
আইআরজিসি-র অবস্থান: নিরাপত্তা ইস্যুতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা।
বিক্ষোভের কারণ: অর্থনৈতিক সংকট থেকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি।
সরকারের দাবি: বিদেশি শক্তির (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) ইন্ধন।
ভয়াবহতা: ৬৫ জনের মৃত্যু এবং ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট।
সূত্র: জিও টিভি