৬ জানুয়ারি, ২০২৬

ভারত থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল কিনছে সরকার: ব্যয় ১৪৬২ কোটি টাকা

ভারত থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল কিনছে সরকার: ব্যয় ১৪৬২ কোটি টাকা

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে এই ডিজেল বাংলাদেশে আসবে। এতে সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৪৬১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ধারাবাহিকতা
বৈঠক শেষে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, এই আমদানি কার্যক্রম মূলত ১৫ বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এই চুক্তিটি বিগত সরকারের আমলে করা হলেও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। প্রতি ব্যারেল ডিজেলের প্রিমিয়াম ৫.৫০ মার্কিন ডলার এবং ভিত্তিমূল্য ৮৩.২২ মার্কিন ডলার ধরে মোট খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ কোটি ৯১ লাখ ৩৩ হাজার ২১৬ মার্কিন ডলার।

পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ
ভারতের আসাম রাজ্যের নুমালিগড় থেকে শিলিগুড়ি টার্মিনাল হয়ে এই ডিজেল সরাসরি বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছাবে। আগে ট্রেনে করে আনা হলেও বর্তমানে ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন’-এর মাধ্যমে অত্যন্ত কম খরচে ও দ্রুততম সময়ে এই জ্বালানি পরিবহন করা হচ্ছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ক্রমান্বয়ে এই আমদানির পরিমাণ বছরে ১০ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এনআরএল-এর ‘নবরত্ন’ মর্যাদা ও পরিবেশ বিতর্ক
ভারতের আসামের এই রিফাইনারিটি সম্প্রতি ভারত সরকারের কাছ থেকে ‘নবরত্ন’ মর্যাদা পেলেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরিবেশদূষণের অভিযোগ উঠেছে। আসামের ধনশিরি নদীতে অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলার অভিযোগে ভারতের ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করেছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

অর্থায়নের উৎস
বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন) জানিয়েছে, এই বিপুল ব্যয়ের একটি অংশ তারা নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেবে এবং বাকি অর্থ ব্যাংকঋণের মাধ্যমে সংস্থান করা হবে।