আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।
পুলিশ, আনসার ও কোস্টগার্ডসহ মোট সদস্যের প্রায় ৭৫ শতাংশের প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকিদের প্রশিক্ষণও অতি দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা বলয়
নির্বাচনী সহিংসতা রোধ এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ তৈরি করছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তে ভোট চলাকালীন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে তা সরাসরি তদারকি করা যাবে।
ফলে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দ্রুত অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া নির্বাচনের দিন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের প্রশিক্ষণও চলমান রয়েছে, যা আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হবে।
পোস্টাল ব্যালটে ব্যাপক সাড়া
এবারের নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোটারদের মধ্যে অভূতপূর্ব আগ্রহ দেখা গেছে। প্রেস সচিব জানান, এ পর্যন্ত মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে:
দেশের অভ্যন্তরে: ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন (নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও অন্যান্য)।
বিদেশে (প্রবাসী): ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন।
মনিটরিং ও কন্ট্রোল রুম
ভোটের দিন প্রতিটি উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে পৃথক মনিটরিং কন্ট্রোল রুম থাকবে। ঢাকায় একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সারাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রেস সচিব আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচনী প্রস্তুতির এই কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে পুরো নিরাপত্তা কাঠামো ভোটের জন্য শতভাগ প্রস্তুত হয়ে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।