৬ জানুয়ারি, ২০২৬

জামায়াত -এনসিপির মধ্যে আসন সমঝোতা হয়নি

জামায়াত -এনসিপির মধ্যে আসন সমঝোতা হয়নি

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান (৩০০ নম্বর) আসনে নির্বাচনী জোটে থাকা জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে প্রার্থিতা নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।

কেন্দ্র থেকে আসন সমঝোতার ঘোষণা এলেও মাঠপর্যায়ে কে ছাড় দেবেন, তা নিয়ে দুই দলের স্থানীয় নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ এখন তুঙ্গে।

৩০ আসনের সমঝোতা ও বান্দরবান বিতর্ক
গত ২৯ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতার ঘোষণা আসে। এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মংসাপ্রু চৌধুরীর দাবি, সমঝোতা অনুযায়ী এনসিপিকে দেওয়া ৩০টি আসনের মধ্যে বান্দরবান একটি। তবে জামায়াত নেতাদের মতে, কাগজে-কলমে সমঝোতা হলেও মাঠের বাস্তবতা ও প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে জামায়াতই এখানে শক্তিশালী।

মাঠে তিন দলের প্রার্থী: অপেক্ষায় কেন্দ্র
বর্তমানে এই আসনে জোটভুক্ত তিনটি দলের প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে: ১. আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন (এনসিপি) ২. মুহাম্মদ আবুল কালাম (জামায়াতে ইসলামী) ৩. মাওলানা মো. আবুল কালাম আজাদ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)

তিন দলের প্রার্থীরাই এখন মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, তারা কেন্দ্রের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন; নির্দেশনা পেলে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন, অন্যথায় নির্বাচনে লড়বেন।

‘বহিরাগত’ ইস্যু ও প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা
এনসিপির প্রার্থী আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিনের বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালী হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় জামায়াত। জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, "পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ বহিরাগত প্রার্থীদের ব্যাপারে অত্যন্ত সংবেদনশীল। এনসিপির প্রার্থীর এখানে পরিচিতি নেই। বিপরীতে জামায়াতের প্রার্থী একজন আইনজীবী এবং সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।"

অন্যদিকে, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মংসাপ্রু চৌধুরীর যুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রামের জাতিগত বৈচিত্র্য বিবেচনা করেই সমঝোতায় এই আসনটি এনসিপিকে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আশা, শেষ মুহূর্তে জামায়াত প্রার্থী তাদের সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়াবেন।

জোটের ভবিষ্যৎ কী?
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত তারিখের আগেই এই সংকটের সমাধান হবে বলে আশা করছেন জোটের নেতা-কর্মীরা। তবে স্থানীয় ভোটারদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে—শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী? পাহাড়ি-বাঙালি ভোটের সমীকরণে এই সমঝোতা কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।