৬ জানুয়ারি, ২০২৬

দরপত্র ছাড়াই টিকা কিনছে সরকার

দরপত্র ছাড়াই টিকা কিনছে সরকার

দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও টিকাদান কর্মসূচি নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বড় ধরনের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় ইউনিসেফের মাধ্যমে ৬১০ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সব ধরণের রুটিন টিকা কেনার প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন দেওয়া হয়।

সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহ
বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব টিকা সংগ্রহ করা হবে। মূলত টিকার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং দাম সাশ্রয়ী রাখতেই ইউনিসেফের মাধ্যমে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ও টিকার তাপ-সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে শুরু থেকেই বাংলাদেশ ইউনিসেফের মাধ্যমে এই কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।

এডিবি’র অর্থায়ন ও ব্যয়ের খাত
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রস্তাবে জানানো হয়েছে, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রকল্পে এডিবি ঋণের ১৭৫ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অব্যয়িত রয়েছে। সেই তহবিল থেকেই ৪৯ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১০ কোটি টাকা) এখন ইপিআই টিকা কেনার কাজে ব্যয় করা হবে।

যেসব রোগের টিকা দেওয়া হবে
বর্তমানে বাংলাদেশে ইপিআই-এর আওতায় শিশুদের বিনামূল্যে ১০টি রোগের প্রতিষেধক দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে:

যক্ষ্মা (TB), ডিপথেরিয়ার, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার।

হেপাটাইটিস-বি, পোলিও, হাম ও রুবেলা।

নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া ও হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি।

সফলতার প্রেক্ষাপট
১৯৭৯ সালে দেশে ইপিআই কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে প্রতি বছর প্রায় আড়াই লাখ শিশু সংক্রামক রোগে মারা যেত। দীর্ঘ কয়েক দশকের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় এই মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এর আগে অধিকাংশ টিকা বিনামূল্যে পাওয়া গেলেও গত বছর থেকে বাংলাদেশকে এই টিকা কিনে নিতে হচ্ছে। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গ্যাভি) ২০১৯ সালে বাংলাদেশের এই সফলতাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পদকে ভূষিত করেছিল।

সরকার জানিয়েছে, মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি সচল রাখতে এবং কোনো অবস্থাতেই যেন টিকার সংকট তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই আগাম এই ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।