বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুমের ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জড়িত ছিল র্যাব ও পুলিশ—এমন তথ্য উঠে এসেছে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট গুমের ঘটনার প্রায় ২৫ শতাংশে র্যাব এবং ২৩ শতাংশে পুলিশ জড়িত ছিল। এছাড়া ডিবি, সিটিটিসি, ডিজিএফআই ও এনএসআইও গুমের ঘটনায় উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পৃক্ত ছিল।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে কমিশনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কমিশন সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। এ সময় কমিশনের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
কমিশন সভাপতি বলেন, অভিযোগগুলোর ধরন বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে গুম কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি ছিল একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত রাষ্ট্রীয় চর্চা, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একক ও যৌথ অভিযানের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে।
কমিশনে জমা পড়া ১,৯১৩টি অভিযোগের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১,৫৬৯টি অভিযোগ সক্রিয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে ২৫১ জন গুমের শিকার এবং ৩৬ জনের গুমের পর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে কমিশন ২২২ জন কর্মকর্তা, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং ৭৬৫ জন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকার নেয়। এছাড়া সম্ভাব্য ক্রাইম সিন, আয়নাঘর ও ডাম্পিং প্লেস পরিদর্শনের মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জ, বরিশাল ও বরগুনা এলাকায় গুমের গুরুত্বপূর্ণ আলামতের সন্ধান পাওয়া গেছে।
কমিশন অজ্ঞাত পরিচয় মরদেহ শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা ও একটি জাতীয় ডিএনএ ডাটাবেস গঠনের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি গুম বন্ধে ব্যাপক সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের সুপারিশে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—
র্যাব বিলুপ্তকরণ
অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার
সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন বা বাতিল
সব বাহিনীকে কঠোর আইনি জবাবদিহির আওতায় আনা
ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন
গুমের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ‘আয়নাঘর’গুলোকে জাদুঘরে রূপান্তর
কমিশন জানিয়েছে, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি রোধে সত্য উদঘাটন, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।