নতুন বছরের শুরুতেই সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের বাজেটে বাড়তি চাপ তৈরি হলো। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানুয়ারি মাসের জন্য এলপিজির নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে, যেখানে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিইআরসি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এই ঘোষণা দেন।
মূল্য পরিবর্তনের প্রধান তথ্যসমূহ
নতুন নির্ধারিত এই দাম ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকেই সারাদেশে কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন দাম (১২ কেজি): ১,৩০৬ টাকা।
পূর্বের দাম (ডিসেম্বর): ১,২৫৩ টাকা।
অটোগ্যাসের দাম: পরিবহনে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটোগ্যাসের দামও লিটার প্রতি ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এখন প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম পড়বে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা।
বিবিধ সিলিন্ডার: ১২ কেজি ছাড়াও ৫.৫ কেজি থেকে শুরু করে ৪৫ কেজি পর্যন্ত অন্যান্য সকল সিলিন্ডারের দামও আনুপাতিক হারে বাড়ানো হয়েছে।
কেন বারবার বাড়ছে দাম?
বিইআরসি জানায়, বাংলাদেশে এলপিজির দাম মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল।
সৌদি সিপির প্রভাব: বাংলাদেশ সাধারণত সৌদি আরামকো কোম্পানির নির্ধারিত দামকে (Saudi CP) ভিত্তি হিসেবে ধরে। জানুয়ারির জন্য প্রোপেন ও বিউটেনের গড় মূল্য প্রতি মেট্রিক টন ৫২১.৭৫ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা গত মাসে কম ছিল। ২. ডলার ও জাহাজ ভাড়া: ডলারের বিনিময় হার এবং আন্তর্জাতিক রুটে জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধিও স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। ৩. শীতকালীন চাহিদা: প্রতি বছর শীতকালে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে বাজারে।
ভোক্তা পর্যায়ে অসন্তোষ ও বাস্তব চিত্র
টানা কয়েক মাস ধরে দাম বাড়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নাভিশ্বাস উঠছে। যদিও বিইআরসি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে, কিন্তু মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন।
অতিরিক্ত দাম: দেশের অনেক এলাকায় খুচরা বিক্রেতারা নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদারকির অভাব: ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে বিইআরসি নির্ধারিত রেট কার্যকর করতে কঠোর মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।