৪ জানুয়ারি, ২০২৬

গত বছর সড়কে বেড়েছে মৃত্যু ও হাহাকার

গত বছর সড়কে বেড়েছে মৃত্যু ও হাহাকার

নতুন বছরের শুরুতেই বিগত বছরের এক বিভীষিকাময় পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা এবং এতে হতাহতের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল হলেও সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হয়েছে।

ভয়াবহ পরিসংখ্যান: সড়কে মৃত্যুর মিছিল
রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। গত এক বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর ২০২৫) তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে:

মোট সড়ক দুর্ঘটনা: ৬ হাজার ৭২৯টি (২০২৪-এর তুলনায় ৬.৯৪% বৃদ্ধি)।

নিহত: ৯ হাজার ১১১ জন (৫.৭৯% বৃদ্ধি)।

আহত: ১৪ হাজার ৮১২ জন (১৪.৮৭% বৃদ্ধি)।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ: মোটরসাইকেল
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে মোটরসাইকেল। মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৩৭.৪ শতাংশই ছিল মোটরবাইক সংশ্লিষ্ট।

মোটরবাইক দুর্ঘটনা: ২ হাজার ৪৯৩টি।

নিহত: ২ হাজার ৯৮৩ জন।

আহত: ২ হাজার ২১৯ জন।

নৌ ও রেলপথের চিত্র
শুধু সড়ক নয়, রেল ও নৌপথেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রাণহানি ঘটেছে:

রেলপথ: ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জন নিহত।

নৌপথ: ১২৭টি দুর্ঘটনায় ১৫৮ জন নিহত এবং ৩৮ জন নিখোঁজ।

সর্বমোট সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে দেশে গত বছর ৭ হাজার ৩৬৯টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ৭৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

দুর্ঘটনার নেপথ্যে প্রধান কারণসমূহ
যাত্রীকল্যাণ সমিতির বিশ্লেষণে দুর্ঘটনার পেছনে কয়েকটি মূল কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে: ১. চালকদের বেপরোয়া গতি ও বিপজ্জনক ওভারটেকিং। ২. ফিটনেসবিহীন যানবাহনের অবাধ চলাচল। ৩. সড়কের নির্মাণজনিত ত্রুটি। ৪. রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে চাঁদাবাজি ও অব্যবস্থাপনা বৃদ্ধি।

বাস্তব চিত্র আরও ভয়াবহ
মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী দাবি করেন, "গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে তৈরি এই রিপোর্টের চেয়ে বাস্তব চিত্র অন্তত পাঁচ গুণ বেশি ভয়াবহ। রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে প্রতিদিন যত রোগী ভর্তি হয়, তা পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় যে অসংখ্য দুর্ঘটনা রেকর্ডেই আসে না।"

সড়ক নিরাপদ করার ১২ দফা সুপারিশ
পরিবহন খাত সংস্কার ও দুর্ঘটনা রোধে সমিতি ১২টি সুপারিশ প্রস্তাব করেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

রাজনৈতিক অঙ্গীকার: আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে ‘সড়ক নিরাপত্তা’ ও ‘উন্নত গণপরিবহন’ অন্তর্ভুক্ত করা।

পরিবহন আধুনিকায়ন: নগরীগুলোতে রিকশা ও অটোরিকশার পরিবর্তে সর্বাধুনিক ইলেকট্রিক এসি বাসের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।

প্রশিক্ষণ: বিআরটিএ অনুমোদিত স্কুলে ৬০ ঘণ্টার ইনক্লুসিভ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ছাড়া লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করা।

বাজেট: সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বার্ষিক বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা।