আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আজ শনিবার ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
দিনভর রুদ্ধশ্বাস পর্যালোচনার পর এই ১৫টি আসনে জমা পড়া ১৯৪টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৬৩টি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে ঢাকা মহানগরের এই আসনগুলোতে বিএনপি মনোনীত সকল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হলেও জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থীসহ দুজনের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে।
যাচাই-বাছাইয়ের ফলাফল একনজরে
ঢাকা মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্যে ১৩টির রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার। বাকি দুটি আসন—ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫-এর রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা।
১৩টি আসনে চিত্র: ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, তাঁর আওতাধীন ১৩টি আসনে মোট ১৭৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১১৮ জনকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৫৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
বাকি ২ আসনে চিত্র: ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনে মোট ২০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ১১টি বৈধ এবং ৮টি বাতিল হয়েছে। একটি মনোনয়ন স্থগিত রয়েছে।
দলের প্রার্থীরা কে কোথায়?
বিএনপির শতভাগ বৈধতা: ঢাকা মহানগরের যে ১৫টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের আবেদনই বৈধ বলে গণ্য হয়েছে।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুরের মনোনয়ন বৈধ: ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই আসনে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের মনোনয়নও বৈধ হয়েছে।
ঢাকা-১৮ আসনে স্থগিত: ঢাকা-১৮ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আশরাফুল হকের মনোনয়নপত্রের একটি নথিতে ঘাটতি থাকায় সেটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে তিনি কাল রোববারের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার সময় পেয়েছেন।
ঢাকা-১৩ আসনে মামুনুল হক বৈধ: ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী।
কেন বাতিল হলো মনোনয়ন?
রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানান, যাঁদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই স্বতন্ত্র প্রার্থী। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের অন্তত ১ শতাংশের স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের একটি বড় অংশ এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ছাড়া ঋণখেলাপি হওয়া এবং রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতার কারণেও বেশ কয়েকজনের প্রার্থিতা নাকচ করা হয়েছে।
পরবর্তী ধাপ: আপিল প্রক্রিয়া
যাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তারা ভেঙে না পড়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে এই আপিল নিষ্পত্তি করা হবে।
মুক্ত প্রভাত বিশ্লেষণ: ঢাকা মহানগরের এই আসনগুলো বরাবরই রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। হেভিওয়েট প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটযুদ্ধ বেশ জমে উঠবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।