আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় অন্যতম আলোচিত মুখ, স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা-৯ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকা জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম এই ঘোষণা দেন। মূলত সমর্থকদের স্বাক্ষরে কারিগরি ত্রুটি ও ভোটার তথ্য গরমিলের কারণেই তাঁর এই প্রার্থিতা প্রাথমিকভাবে বাতিল হলো।
বাতিলের কারণ ও নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের যে সমর্থন তালিকা জমা দিতে হয়, সেখানে তাসনিম জারার দাখিল করা তথ্যে অসংগতি পাওয়া গেছে। যাচাইয়ের জন্য দৈবচয়ন পদ্ধতিতে বেছে নেওয়া ১০ জন ভোটারের মধ্যে দুজন ঢাকা-৯ আসনের ভোটার নন বলে প্রমাণিত হয়েছে। বিধি অনুযায়ী, সংগৃহীত স্বাক্ষরের মধ্যে তথ্যের গরমিল থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলের বিধান রয়েছে।
তাসনিম জারার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তাসনিম জারা একে 'সিস্টেমের সীমাবদ্ধতা' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "যাঁরা স্বাক্ষর করেছেন, তাঁরা বিশ্বাস করেই করেছিলেন যে তাঁরা এই আসনের ভোটার। একজনের জাতীয় পরিচয়পত্রে এই এলাকার ঠিকানা থাকলেও নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে ভিন্ন তথ্য দেখাচ্ছে। ভোটাররা কোন আসনের অন্তর্ভুক্ত, তা যাচাই করার সহজ কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এই অনিচ্ছাকৃত ভুলটি হয়েছে।"
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, আগামী সোমবার (৫ জানুয়ারি) এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন।
এনসিপি ত্যাগ ও জনতহবিলে নির্বাচন
৩১ বছর বয়সী ডা. তাসনিম জারা মূলত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ নেতা ছিলেন। তবে দলটির জোটগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে না পেরে তিনি পদত্যাগ করেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার ঘোষণা দেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা চাঁদা সংগ্রহ করে তিনি দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন।
হলফনামায় সম্পদের খতিয়ান
তাসনিম জারার জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী:
সম্পদ: তাঁর মোট ১৯ লাখ ১৩ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে, যার মধ্যে নগদ ১৬ লাখ টাকা এবং ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা (ব্রিটিশ পাউন্ড) রয়েছে।
স্থাবর সম্পদ: তাঁর নিজের নামে কোনো জমি বা ফ্ল্যাট নেই।
পেশা ও আয়: পেশায় চিকিৎসক এই প্রার্থীর বার্ষিক আয় ৭ লাখ ১৩ হাজার টাকার কিছু বেশি।
ভোটারদের নজর এখন আপিলের দিকে
ঢাকা-৯ (খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা) আসনের তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাসনিম জারাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। এখন সবার নজর ৫ জানুয়ারির আপিল আবেদনের ওপর। যদি নির্বাচন কমিশন তাঁর যুক্তি গ্রহণ করে, তবেই তিনি পুনরায় নির্বাচনের দৌড়ে ফিরতে পারবেন। অন্যথায়, উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া তাঁর আর কোনো পথ থাকবে না।