২ জানুয়ারি, ২০২৬

গত ম্যাচের খলনায়ক মাহমুদউল্লাহ আজকের জয়ের নায়ক

গত ম্যাচের খলনায়ক মাহমুদউল্লাহ আজকের জয়ের নায়ক

ক্রিকেট এক চরম অনিশ্চয়তার খেলা, আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যেন সেই অনিশ্চয়তারই বরপুত্র। মাত্র এক দিন আগে রাজশাহীর বিপক্ষে ১ বলে ১ রান নিতে না পেরে সমর্থকদের চোখে ‘খলনায়ক’ বনে যাওয়া সেই মাহমুদউল্লাহই আজ জয়ের নায়ক।

চায়ের শহর সিলেটে তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে সিলেট টাইটানসকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে রংপুর রাইডার্স।

খাদের কিনারা থেকে মাহমুদউল্লাহর ঝড়
সিলেটের দেওয়া ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১৫তম ওভারে কাইল মায়ার্স বিদায় নিলে বেশ চাপে পড়ে রংপুর। জয়ের জন্য শেষ ৫ ওভারে দরকার ছিল ৪৯ রান। সমীকরণটা কঠিন মনে হলেও মাহমুদউল্লাহর মাথায় ছিল অন্য পরিকল্পনা।

মেহেদী হাসান মিরাজের করা ১৬তম ওভারটিকেই লক্ষ্য বানান তিনি। ওভারের শেষ চার বলে তিন চার ও এক ছক্কায় তুলে নেন ১৯ রান। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ১৬ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩৪ রানের এক ক্যামিও খেলে ৭ বল হাতে রেখেই রংপুরের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এর আগে লিটন দাস ৩১ রান করে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন।

মোস্তাফিজের ৪০০০ ও ৪০০-র রেকর্ড
জয়ের এই রাতে ব্যক্তিগত এক মহাকাব্য লিখেছেন রংপুরের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। বল হাতে সিলেট টাইটানসের ৩ উইকেট শিকার করার পথে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন 'ফিজ'। মোস্তাফিজের গতির মুখে পড়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো সিলেট ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রানে থেমে যায়। সিলেটের পক্ষে আফিফ হোসেন ৪৬ এবং ইথান ব্রুকস ৩২ রান করেন।

ফিরে আসার মহাকাব্য
গত ম্যাচে সুপার ওভারে হারের জন্য যাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল, আজ মাঠ ছাড়ার সময় সেই মাহমুদউল্লাহর নামেই জয়ধ্বনি দিচ্ছিল রংপুরের সমর্থকরা। ম্যাচ শেষে দেখা গেল হাস্যোজ্জ্বল মাহমুদউল্লাহ ও মাইলফলক ছোঁয়া মোস্তাফিজের উদযাপন।


একনজরে স্কোরকার্ড:

  • সিলেট টাইটানস: ১৪৪/৮ (২০ ওভার); আফিফ ৪৬, ব্রুকস ৩২। মোস্তাফিজ ৩/২৪।

  • রংপুর রাইডার্স: ১৪৫/৪ (১৮.৫ ওভার); মাহমুদউল্লাহ ৩৪*, লিটন ৩১।

  • ফল: রংপুর রাইডার্স ৬ উইকেটে জয়ী।