নির্বাচনে জয়ের লড়াইয়ে তাঁর বড় ভরসা এখন সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আর্থিক সমর্থন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, প্রায় ৪৭ লাখ টাকার ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ বা গণ-অনুদানের তহবিল নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামছেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জমা দেওয়া হলফনামায় তাসনিম জারা তাঁর নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য উৎসের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন:
গণ-অনুদান (Crowd Funding): সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।
নিজস্ব আমানত: ব্যাংক আমানত ও অন্যান্য আয় হিসেবে আছে ২৩ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২০০ ব্রিটিশ পাউন্ড।
তাসনিম জারা নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ছিলেন। তবে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট হওয়ার প্রতিবাদে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর তিনি তাঁর জন্মস্থান খিলগাঁও-সবুজবাগ-মুগদা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন। আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ৪ হাজার ৬৯৩ জন ভোটারের সমর্থনযুক্ত স্বাক্ষর সংগ্রহ করে তিনি তাঁর জনপ্রিয়তার প্রাথমিক প্রমাণও দিয়েছেন।
হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩১ বছর বয়সী এই চিকিৎসকের বার্ষিক ও ব্যক্তিগত সম্পদের চিত্র নিম্নরূপ:
পেশা: চিকিৎসক, শিক্ষক ও উদ্যোক্তা।
বার্ষিক আয়: দেশীয় চাকরিতে বছরে ৭ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৭ টাকা। এছাড়া বিদেশ থেকে শেয়ার ও ব্যাংক আমানত বাবদ আয় ৩ হাজার ২০০ ব্রিটিশ পাউন্ড।
অস্থাবর সম্পদ: নগদ ১৬ লাখ টাকা, ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ব্রিটিশ পাউন্ড, এবং আড়াই লাখ টাকার স্বর্ণালংকার।
স্বামী: তাঁর স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহ একজন উদ্যোক্তা। তিনি দেশের বাইরে বছরে ৩৫ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড আয় করেন এবং তাঁর ২৫ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তবে এই দম্পতির কোনো স্থাবর সম্পদ (জমি বা বাড়ি) নেই।
তাসনিম জারা জানিয়েছেন, এনসিপিতে থাকাকালীনই তিনি এই ক্রাউড ফান্ডিং শুরু করেছিলেন। দল ছাড়ার পর যারা টাকা ফেরত চেয়েছেন, তাদের তা বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষের টাকায় নির্বাচন করার মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা তৈরি হয়, যা বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনীতিতে বিরল।