বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম রূপকার ও প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ড. কামাল হোসেন গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
অসুস্থতার বিবরণ ও বর্তমান অবস্থা
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে তাঁর অসুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ড. কামাল হোসেন বেশ কিছুদিন ধরে ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন। শুক্রবার শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মিজানুর রহমান বলেন, "স্যার ফুসফুসে ইনফেকশনজনিত জটিলতায় ভুগছেন। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। আমরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইছি।"
শেষ জনসম্মুখ উপস্থিতি
উল্লেখ্য, গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল ৮৮ বছর বয়সী এই প্রবীণ নেতাকে। বার্ধক্যজনিত কারণে শরীর কিছুটা দুর্বল থাকলেও দেশ ও রাজনীতির সংকটে তাকে বরাবরই সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।
বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের এক ঝলক
ড. কামাল হোসেন কেবল একজন রাজনীতিবিদই নন, তিনি বাংলাদেশের আইনি ও সাংবিধানিক ইতিহাসের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তাঁর কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
সংবিধানের স্থপতি: ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
আইন পেশা: আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একজন খ্যাতিমান আইনজীবী হিসেবে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।
গণফোরাম প্রতিষ্ঠা: রাজনৈতিক গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে তিনি গণফোরাম গঠন করেন এবং দীর্ঘ সময় দলটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
ঐতিহাসিক ভূমিকা: বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে তিনি আইন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।
দেশের এই বরেণ্য ব্যক্তিত্বের অসুস্থতার সংবাদে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার নিয়মিত আপডেট পেতে স্কয়ার হাসপাতালের সামনে ভিড় করছেন তাঁর অনুসারী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।