১ জানুয়ারি, ২০২৬

শিক্ষকতায় থেকে অন্য পেশা নয়: এমপিও নীতিমালার নতুন বিধান নিয়ে হাইকোর্টের রুল

শিক্ষকতায় থেকে অন্য পেশা নয়: এমপিও নীতিমালার নতুন বিধান নিয়ে হাইকোর্টের রুল

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য একই সঙ্গে একাধিক চাকরি বা লাভজনক পদে থাকার ওপর নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সরকারের জারি করা ‘এমপিও নীতিমালা-২০২৫’-এর বিতর্কিত বিধান কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রুল
আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমন ও বিচারপতি দিহিদার মাসুদ কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি এই রুল জারি করেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালককে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। ১০ জন সাংবাদিক-শিক্ষকের পক্ষে এই আবেদনটি দাখিল করেন আইনজীবী নাইম সরদার।

বিতর্কের মূলে যা আছে
গত ৭ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ জারি করে। এই নীতিমালার ১৭ (ক ও খ) ধারায় বলা হয়:

এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক চাকরি বা কোনো লাভজনক পদে থাকতে পারবেন না।

বিশেষ করে সাংবাদিকতা বা আইন পেশার মতো কাজে যুক্ত থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বাতিল করা যাবে।

বিপাকে মফস্বলের সাড়ে তিন হাজার সাংবাদিক
এই নতুন বিধানের ফলে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন দেশের মফস্বল এলাকায় কর্মরত সাংবাদিকরা। সমকালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষক রয়েছেন যারা খণ্ডকালীন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক প্রেস ক্লাবের শীর্ষ পদেও শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দাবি, তারা বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা শেষ করেই সমাজসেবামূলক বা সামান্য সম্মানীর বিনিময়ে এসব পেশায় যুক্ত থাকেন। এতে শিক্ষার কোনো ক্ষতি হয় না, বরং সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

হাইকোর্টের এই রুলের মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ হলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন নীতিমালার আইনগত ভিত্তি। নীতিমালার এই কঠোর শর্ত বহাল থাকবে নাকি মফস্বলের সাংবাদিকদের ছাড় দেওয়া হবে, তা এখন রুলের জবাব এবং চূড়ান্ত শুনানির ওপর নির্ভর করছে। দেশজুড়ে শিক্ষক ও সাংবাদিক সমাজের নজর এখন উচ্চ আদালতের পরবর্তী আদেশের দিকে।