বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তাঁর স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই দাফন করা হতে পারে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানেই তাঁর শেষ শয্যা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আগামীকাল বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানাজা ও দাফনের যাবতীয় রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিএনপি এখন অন্তর্র্বতী সরকারের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে।

হাসপাতালে শেষ লড়াই
আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খালেদা জিয়া (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন জানান, গত ২৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর আজ ভোরে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় তাঁর পাশে বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
‘দেশনেত্রী’র ৪৩ বছরের পথচলা
১৯৮২ সালে এক ক্রান্তিলগ্নে রাজনীতিতে পা রাখা খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে বিএনপির হাল ধরেছিলেন। স্বৈরশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ‘আপসহীন’ ভূমিকা তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বহু চড়াই-উতরাই, কারাবরণ ও আপনজন হারানোর শোক সইলেও রাজনীতিতে তিনি ছিলেন অটল। গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর কারামুক্ত হয়ে তিনি প্রতিহিংসা ভুলে দেশ গড়ার ডাক দিয়েছিলেন।
শোকাতুর রাজনৈতিক অঙ্গন
খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্র্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এক শোকবার্তায় তিনি খালেদা জিয়াকে ‘জাতির মহান অভিভাবক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য, সরকার চলতি মাসেই তাঁকে রাষ্ট্রের ‘অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে লন্ডনে উন্নত চিকিৎসা শেষে তাঁর স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু বার্ধক্য ও দীর্ঘদিনের জটিল রোগব্যাধির ধকল তাঁর শরীর আর সইতে পারল না। আজ সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই হাসপাতাল এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে। প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতেও ব্যাপক প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে।