মাটি কাটার মেশিনে চাপা পড়ে মারা যায় এক শিশু। মেশিনের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত শরীরের বিভিন্ন অংশ। অভিভাবকদেরকে সন্তানা দিতে নেওয়া হয় হাসপাতালে। এর অনেক আগেই মৃত্যু হয় তার। মৃতদেহ বাড়ী পোঁছার আগে আসে সমঝোতার প্রস্তাব। এক রকম জোরপূর্বক সমঝোতাও করা হয়।
বিনিময়ে নির্ধারণ করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা। এক বছর পরে সে টাকা চাইতে গেলে দেওয়া হয় প্রাণনাশের হুমকি। নিজ দলের নেতাদের এধরণের আচরণে বাকরুদ্ধ কৃষকদল নেতা সেলিম মাঝি। নোয়াখালীর হাতিয়ায় বুড়ির ইউনিয়নের কালিরচর গ্রামে ঘটে এই ঘটনা।
রবিবার ২৮ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা মুক্তিযোদ্বা ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বুড়িরচর ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ড কৃষকদল সিঃ সহসভাপতি সেলিম মাঝি।
সংবাদ সম্মেলনে সেলিম মাঝি অভিযোগ করে বলেন, এক বছর পূর্বে মাটি কাটার মেশিনে (এস্কেভেটর) চাপা পড়ে নিহত হয় ইয়াসিন আরাফাত (১১)। তাৎক্ষনিক খবর পেয়ে আমার ছোট ভাই কালাম ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন ইয়াসিনকে মেরে মাটি চাপা দেওয়া হচ্ছে।
তার চিৎকারে মাটি না দিয়ে তাকে উপজেলা হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ডাক্তার। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের মার্চ মাসে।
তিনি আরো বলেন, আমার ছেলের মৃদদেহ বাড়ী পৌঁছার আগে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কাফি ফরাজীর নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী আমার বাড়ী এসে সমঝোতার প্রস্তাব দেয়।
এক পর্যায়ে তিন লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সমঝোতা হয়। তাতে আমার ছেলের দাফন সম্পন্ন হয়। এরপর একাধিক বার শালিসদারদের কাছে টাকা চাওয়ার পরে পাওয়া যায় নি। গত এক সপ্তাহ ধরে কয়েক বার আমি কাফি ফরাজীর কাছে গেলে তিনি আমার সাথে দুর্ব্যবহার করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে সেলিম মাঝি কান্না বিজোড়িত কন্ঠে বলেন, আমি একজন কৃষকদলের নেতা হয়েও আমি আমার দলের কাছে সুবিচার পায় নাই। শালিসদার প্রধান কাফি ফরাজী তাদের নির্ধারণ করা ক্ষতি পূরণের জন্য যতবারই যাই তিনি আমাকে অপদস্ত করেন।