রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১১ নং গনিপুর ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের মৃত, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন এর বাড়ি নির্মাণ ও সংস্কারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারই এক প্রতিবেশী পুলিশ সদস্য নামাজুল ইসলাম জনি (৩৬) ও তার পিতা মোজাম্মেল হক (৫৮) এর বিরুদ্ধে।
এছাড়াও তাহেরপুর পৌর শ্রমিকদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি করে হত্যা ও তুলে নিয়ে গুম করে ফেলার হুমকি দিয়েছেন মর্মে বাগমারা থানায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে অভিযোগ দিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম।
এর আগে ওই পুলিশের সদস্য, বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের বিধবা স্ত্রী-সন্তানকে মারধর ও ঘরের টিনের চালা কেটে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন প্রতিপক্ষরা এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য জনি ও তার পিতা মোজাম্মেল হক এর ভয়ে এলাকায় সবাই তটস্থ। তাদের ভয়ে এলাকার কেউ কোনো বিষয়ে মুখ খোলার সাহস পায় না বলেও জানান ভুক্তভোগী ওই পরিবার।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের মেজ মেয়ে আকলিমা বেগম বলেন, পুলিশের ক্ষমতা দেখিয়ে এহেন এমন কোন কাজ নাই সে করেনি। ওরা আমাদের ঘরের টিন কেটে দিয়েছিল। সেজন্য বৃষ্টির পানি পড়ে ঘর পড়ে গেছে।
সেজন্য নতুন করে আবার বাড়ি মেরামত কাজ করছি। ওরা যতটুকু জমি দাবি করেছিল, ততটুকু ছেড়ে দিয়েছি। তারপরও সে আমাদেরকে এখানে বাড়ি নির্মাণ সংস্কারের কাজ করতে বাধা দিচ্ছেন।
এছাড়াও আট থেকে দশটার মত সে বিয়ে করেছে।
সে পুলিশ সদস্য হয়ে এই ভাবে পালিয়ে পলিয়ে বিয়ে করে,যা কেউই জানে না। সে অসুস্থর ভান করে বাসায় ছুটি কাটায়। আর এক মাস পর পর স্ত্রীদের ডিভোর্স করে। তার স্বভাব অনেক খারাপ। আমার বৃদ্ধ মাকে মারধর করেছে সে। আমরা এসবের বিচার চাই।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের জামাই ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার শশুর বাড়ির ঘরের টিন কেটে দিয়েছিল ওই পুলিশ। তারপর সেসব চিন্তায়, টেনশনে আমার শ্বশুর স্ট্রোক করে মারা যায়। সামনে বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান হবে দেখে বাড়ির কিছু সংস্কার কাজ করা হচ্ছে।
সে পুলিশে চাকরি করে তাই দাপট দেখিয়ে এখন বাড়ির কাজ জোর করে বন্ধ করে দিয়েছে এবং আমাকে ফোন করে হুমকি দিয়েছে। আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করে গুম করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ওই পুলিশ সদস্য জনি। আমি নিরাপত্তা চেয়ে বাগমারা থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
এসব বিষয়ে জানতে নামাজুল ইসলামের সাথে কয়েকদিন যাবত মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এসব বিষয়ে জানা, ১১ নং গনিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান রঞ্জু বলেন, মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন অনেক আগেই ঘর-বাড়ি করেছেন, এছাড়াও তার প্রতিপক্ষ জনিরাও বাড়ি নির্মাণ করেছেন, এখন কিভাবে আবুল হোসেনের ওয়াল ভাঙ্গবে তারা আমি বুঝি না। তবুও আমি বলে এসেছি তোমরা আমীন এনে আমাকে জানাও আমি এর সুষ্ঠু ফায়সালা করে দেব।
এ বিষয়ে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, থানায় প্রতিদিন অনেক অভিযোগ আসে। তাই এ বিষয়ে আমার জানা নাই। তবে আমি বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এছাড়াও আপনি একটু তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন। তাহলে এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন।