শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগ মোড়। সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না আসায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, খুনিদের বিচার না করে কাউকেই ‘সেফ এক্সিট’ দেওয়া হবে না।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে শাহবাগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এই কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন।
‘রক্তের সাথে বেইমানি করলে নিস্তার নেই’
সমাবেশে আব্দুল্লাহ আল জাবের সরাসরি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের লক্ষ্য করে বলেন, "যারা ভাবছেন কিছুদিন ক্ষমতায় থেকে বিদেশে পাড়ি জমাবেন, তাদের সেই স্বপ্ন সফল হবে না। রক্তের সাথে বেইমানি করলে এই জমিনেই আপনাদের বিচার করবে জনতা।" তিনি আরও যোগ করেন, ১ হাজার ৪০০ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এলেও খুনিদের বিচার নিশ্চিত করতে না পারা চরম লজ্জার বিষয়।
যমুনা ও সংসদ ভবন ঘেরাওয়ের হুমকি
বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, সরকার যদি দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার এবং নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত না করে, তবে যেকোনো মুহূর্তে আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ এবং ‘সংসদ ভবন’ ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে আল জাবের স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
অন্তরালের কুশীলবদের নাম প্রকাশের দাবি
বিচারের পথে কারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে—উপদেষ্টাদের কাছে এমন প্রশ্ন তুলে জাবের বলেন, "কারা এই খুনের পেছনে রয়েছে তাদের নাম প্রকাশ করুন। আপনাদের ভয়ের কিছু নেই, প্রয়োজনে আমরা আপনাদের পাহারা দেব। কিন্তু বিচার করতে ব্যর্থ হলে আপনাদের জবাবদিহি করতেই হবে।"
শাহবাগে ছাত্র-জনতার অবস্থান
এদিন দুপুর থেকেই শাহবাগ মোড়ে জমায়েত হতে থাকেন ছাত্র-জনতা। তাদের কণ্ঠে ছিল হাদি হত্যার বিচার ও খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মুহুর্মুহু স্লোগান। আন্দোলনকারীরা মনে করছেন, বিচার প্রক্রিয়ায় এই দীর্ঘসূত্রতা শহীদদের ত্যাগের প্রতি অবমাননা। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা।
উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান হাদি হত্যার পর থেকেই বিচার দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে আছে রাজপথ। সরকারের নীরবতা এই ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।